Published : 10 Aug 2025, 09:00 PM
জাতীয় সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কমিশনের এ আলোচনা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক অংশ নিচ্ছেন এই বৈঠকে।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন ও মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
প্রথম ধাপের ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গেল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে সভাপতি হিসেবে আছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, আর সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন আলী রীয়াজ।
প্রাথমিক কাজ গুছিয়ে দলগুলোর সঙ্গে মার্চ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দুই ধাপের সংলাপ করে কমিশন।
কমিশন বলছে, প্রথম পর্বের সংলাপে ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টি বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে। যার কিছু কিছু সরকার এরইমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে (অধ্যাদেশ, নীতি ও নির্বাহী সিদ্ধান্তে মাধ্যমে)।
দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি সাংবিধানিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ১১টি বিষয়ে সবদলের সমর্থনে জাতীয় ঐকমত্য এবং বাকি ৯টি বিষয়ে অধিকাংশ দলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, তাতে কোনো কোনো দলের ভিন্নমত উল্লেখ থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষে আলী রীয়াজ বলেছিলেন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ ও দলগুলোর মতামততের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পথ পদ্ধতি চিহ্নিত করতে হবে।
সবশেষ ৩ অগাস্ট সংসদ ভবনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের সভা হয়। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য হওয়া নানা বিষয় পর্যালোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা।
ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঐকমত্য হওয়া প্রস্তাব বা সুপারিশগুলোর বিষয়ে কমিশন পর্যায়ক্রমে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এবং সেই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে বসবে।