০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ধানমন্ডিতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী খুন: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি

মামলার পর ধানমন্ডি এলাকা থেকে অর্ণবকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

ধানমন্ডিতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী খুন: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি

আদালতে তাহসিন তারিক অর্ণব।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 08:45 PM

Updated : 01 Nov 2026, 08:45 PM

ঢাকার ধানমন্ডিতে আফিয়া আক্তার হত্যা মামলায় তার ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তাদের গৃহকর্মী নার্গিস বেগম সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ।

আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নার্গিস বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শরিফুজ্জামান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান এদিন অর্ণব ও নার্গিসকে আদালতে হাজির করেন।

অর্নবকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন এবং সাক্ষী হিসেবে নার্গিস বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিবিবদ্ধ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শনিবার সকালে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে আফিয়া আক্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি ফিলিপাইনের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত মুহাম্মদ আবুল কাশেমের স্ত্রী।

এ ঘটনায় তাদের চিকিৎসক মেয়ে নাহরিন নাশিদ স্বর্ণা ছোট ভাই অর্ণবকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার পর ধানমন্ডি এলাকা থেকে অর্ণবকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

মামলায় বলা হয়েছে, অর্ণব কোনো কাজকর্ম করতেন না। তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে ঝগড়া করতেন এবং মাকে ‘মেরে ফেলার হুমকি দিতেন’।

মামলায় স্বর্ণা বলেছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির ম্যানেজার মাহবুব তাকে ফোন করে জানান যে দারোয়ানের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তাদের ফ্ল্যাটে ঝামেলা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসকে ফোন করেন। নার্গিস তাকে জানান অর্ণব মাকে ‘গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে’ ডাইনিং রুমে ফেলে রেখেছেন।

এরপর মাহবুবকে ফোন করে স্বর্ণা তার মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আফিয়া আক্তারকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আফিয়া আক্তার রাতের খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। অর্ণব তার শোবার ঘরেই ছিলেন। আফিয়া আক্তারের চিৎকার শুনে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নার্গিস বেগম ডাইনিং রুমে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ‘অর্ণব ছুরি হাতে’ দাঁড়িয়ে আছেন আর আফিয়া আক্তার পড়ে আছেন রক্তাক্ত অবস্থায়।

মামলায় বলা হয়, আফিয়া আক্তারকে ধরতে গেলে অর্ণব গৃহকর্মী নার্গিসকে ‘ছুরি দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন’ এবং বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। তারপর অর্ণব মায়ের ‘মৃত্যু নিশ্চিত করে’ বাসা থেকে বের হয়ে যান।

এদিকে অর্ণব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র’ তিনি, পড়েন ব্যবসায় প্রশাসন-বিবিএ বিভাগে।

অর্ণব বলেন, “আমাকে পুলিশ নিয়ে আসছে। কী কারণে নিয়ে আসছে, বলছে না। কারো সাথে আমাকে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না। আমি কিছু জানি না।”