১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক: সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী

ব্যবসায়ৗ নেতারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবারহ, কর ব্যবস্থা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা পরামর্শ তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক: সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবি: পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 08:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—  বিডা এ বৈঠক আয়োজন করে। সেখানে ব্যবসায়ীরা বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। 

“প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা শুনেছেন এবং তা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।”

বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানি সংকট,  শিল্পখাতের খাতের সমস্যা ও করনীতিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। 

হাসান শিপলু বলেন, ব্যবসায়ৗ নেতারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবারহ, কর ব্যবস্থা, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন।

বৈঠকে এ্যাপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ডিবিএল গ্রুপের এমডি এম এ জাব্বার উপস্থিত ছিলেন। 

ইনসেপ্টা গ্রুপ, র‌্য্যংকস গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ,  এসিআই, বে ফুটওয়্যার, রানার গ্রুপ, ওয়াল্টন গ্রুপ, যমুনা গ্রুপসহ বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাও ছিলেন বৈঠেকে। 

বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাতে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমদানি-রপ্তানি আরো গতিশীল ও বেগবান করতে দেশের বন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা শিগগিরই কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব’।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে “

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।“

‘‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি। প্রথমবার আপনাদের সঙ্গেই বসেছিলাম, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

আগামী তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন বলে জানান উপ প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।“

বৈঠকে জানানো হয়, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আগের বৈঠকে ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ও রেহান আসিফ আসাদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।