০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রাহকের ৮৫ লাখ টাকা ‘হাওয়া’: ডাচ-বাংলার কর্মকর্তাসহ ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

মামলার আবেদনে বাদীর অভিযোগ, নিরক্ষর হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তারা চেক পূরণ ও টাকা জমার কাজে সহযোগিতা করতেন; সেই সুযোগে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎ করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 06:21 PM

Updated : 04 Nov 2026, 06:21 PM

জালিয়াতির মাধ্যমে এক নারী গ্রাহকের হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া শাখার চার কর্মকর্তাসহ নয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে নারগিস আক্তার নামে এক গৃহিণী ওই আবেদন করেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী মাজেদুর রহমান বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআইকে) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

আসামি তালিকায় রয়েছেন- ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট, দনিয়া শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. গোলাম কিবরিয়া, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, রেমিটেন্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা।

এছাড়া ‘গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান এবং ওই কোম্পানিকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গৃহিণী নারগিস আক্তার জমি-গাড়ি বিক্রি এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়ার ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার হিসাবে রেখেছিলেন। ‘নিরক্ষর হওয়ায়’ ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে চেক পূরণ ও টাকা জমার কাজে সহযোগিতা করতেন। গত ১৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন দফায় কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বরেও ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন তিনি। সেদিন আসামিরা তার একটি অতিরিক্ত চেক এবং ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। ৪ অক্টোবর তিনি ব্যাংকে গিয়ে ব্যালেন্স জানতে চাইলে বলা হয়, তার হিসাবে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রয়েছে।

নারগিস আক্তার বাকি টাকার খোঁজ নিলে মামলার আসামি, ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরে ‘পজিটিভ পে ইন্সট্রাকশন’ ফরমের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডকে একটি চেকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তখন ওই নারী দাবি করেন, সেদিন তিনি ‘ব্যাংকে আসেননি’, কাউকে ‘চেকও দেননি’।

বাদীর অভিযোগ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তারা যে চেক রেখেছিলেন, সেটি দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ‘পজিটিভ পে ইন্সট্রাকশন’ ফরম তৈরি করে পূবালী ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখায় গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ওই কোম্পানির পক্ষে আসামি শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ৮৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।