Published : 25 Aug 2025, 07:22 PM
পানি আইনের আওতায় দেশে প্রথমবারের মত চার জেলার ৬৭ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা' ঘোষণা করেছে সরকার।
সেইসঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ'এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটি।
বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ এর ১৭ ও ১৯ ধারার আলোকে বিস্তারিত জরিপ ও অনুসন্ধান শেষে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার মোট ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের (৪,৯১১টি মৌজা) মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নকে (১,৫০৩টি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একইভাবে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন (১০৪টি মৌজা) ও একটি পৌরসভার (৮টি মৌজা) মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন (৭টি মৌজা) এবং একটি পৌরসভাকে (৫টি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
এখন পানি আইন অনুযায়ী এসব এলাকায় পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং খাবার পানি, গৃহস্থালি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে করণীয় চূড়ান্ত করবে।
রোববার ঢাকার গ্রিন রোডে ওয়ারপো ভবনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির অষ্টাদশ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় শিল্পখাতে পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘পানি ব্যবস্থাপনা নীতি ২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নির্বাহী কমিটির সভাপতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহিদীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও অন্যান্য সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন সভায়।
পানির প্রাপ্যতা যাচাই করতে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালানোর সুপারিশ করা হয় সভায়। সেই সঙ্গে চলমান ৫০ জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা যাচাইয়ে যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তা বাকি ১৪১টি জেলায় শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া, নির্বাহী কমিটির সভায় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জলাভূমি—টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘হাওর প্রতিবেশ সুরক্ষা আদেশ’ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই সুরক্ষা আদেশের অধীনে হাওর দুটিতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে করনীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় পানি আইন, ২০১৩ এর দুর্বল কার্যকারিতার ওপর আলোকপাত করে আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।