Published : 06 Sep 2026, 08:05 PM
আপোসের শর্তে ‘যৌতুকের জন্য নির্যাতনের’ অভিযোগে পুত্রবধূর করা মামলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হযরত আলীর স্ত্রী ও ছেলে জামিন পেয়েছেন।
এ সময় স্ত্রীকে আর নির্যাতন করবেন না এবং ভালো ব্যবহার করবেন মর্মে জামিন পেতে আদালতে অঙ্গীকারনামা
দিয়েছেন হযরত আলীর ছেলে মুনতাসির মামুন।
রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাদের জামিনের আদেশ দেয় বলে তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক জামিনের। তিনি বলেন, “বাদীর সাথে আপোসের শর্তে এক হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত মা নাজমা সুলতানা ও তার ছেলে মামুনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
হযরত আলীর পুত্রবধূ আরাফাত ইরিন ঐশী ‘যৌতুকের জন্য তাকে মারধরের অভিযোগে’ ঢাকার আদালতে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঐশীর শাশুড়ি নাজমা সুলতানা ও স্বামী মুনতাসীর মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া হযরত আলী ও মিজানুর রহমান নামে আরেকজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আগামী ৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার নাজমা সুলতানা ও মুনতাসীর মামুনকে রমনা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির দিন রাখে রোববার। এ দিন শুনানিকালে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রাজ্জাব হোসেন রাজু আপোসের শর্তে তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। এ সময় আরাফাত ইরিন ঐশী আদালতে উপস্থিত হন। আসামিদের জামিনে আপত্তি না থাকলেও তিনি কিছু শর্ত দেন। সেই মোতাবেক মুনতাসীর মামুন আদালতে অঙ্গীকারনামা দেন।
অঙ্গীকারনামায় মামুন বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে কোনো অত্যাচার, নির্যাতন করব না। সব সময় ভালো ব্যবহার করব। বাসার অন্য কেউ যেন অত্যাচার, নির্যাতন না করতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকব। তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে বসবাস করব। বাইরে ঘুরতে যাব। তার শারীরিক-মানসিক প্রশান্তি হয়, এমন কর্ম করব বলে অঙ্গীকার করছি।”
পরে আদালত আপোসের শর্তে ঐশী জিম্মায় তাদের জামিনের আদেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুনতাসীর মামুন নতুন ব্যবসা শুরু করার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে এক কোটি টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রী ঐশীকে চাপ দিচ্ছিলেন।
ঐশীর অভিযোগ, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত জানার পরও আসামিরা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। সংসারের কথা চিন্তা করে তিনি তার বাবা ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে চার কিস্তিতে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্বামীকে এককোটি টাকা যৌতুক দেন। এরপরও আসামিদের অর্থের চাহিদা কমেনি।