সোমবার ভোর ৬টায় ঢাকা রাজশাহীর উদ্দেশে ধূমকেতু এক্সপ্রেস যাত্রার মাধ্যমে ঈদের ট্রেনযাত্রা শুরু হয়।
Published : 24 Mar 2025, 02:54 PM
ট্রেনে ঈদযাত্রার প্রথম দিনে বেলা ১১টা পর্যন্ত সময়মত কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে ১৮টি ট্রেন।
ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য যারা গত ১৪ মার্চে অগ্রিম টিকেট কেটেছিলেন, তারাই সোমবার ট্রেনে চেপেছেন। সকাল থেকেই ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে ছিল ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, সোমবার ভোর ৬টায় ঢাকা রাজশাহীর উদ্দেশে ধূমকেতু এক্সপ্রেস যাত্রার মাধ্যমে ঈদের ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। তবে সকাল সাড়ে আটটায় উত্তরবঙ্গগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়ে সকাল ১০টায়। আর কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি সকাল সাড়ে দশটায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি ছেড়েছে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। দুটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলের অনেক যাত্রী।
বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রী মায়মুনা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে আসেন কমলাপুর স্টেশনে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মিরপুরে বাসা নিয়ে থাকি। অনলাইনে তিনটি টিকেট পেয়েছি। ছোট ছেলের জন্য স্ট্যান্ডিং টিকেট নিয়ে আমরা একসাথে যাচ্ছি।
“ভিড় হবে মনে করে তাদের নিয়ে সকাল ছয়টায় এখানে এসেছি। এক ঘণ্টার উপরে হয়ে গেছে ট্রেনের কোনো খবর নাই। দেখি কখন আসে। মাইকে বলেছে কিছুক্ষণের মধ্যে প্ল্যাটফর্মে আসবে।”
কিশোরগঞ্জগামী ট্রেন প্ল্যাটফর্মে না থাকার কারণেও ভোগান্তিতে পড়েন অনেক যাত্রী।
রেলের সূচি নিয়ে স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, “বুড়িমারী একপ্রেস ট্রেনটি ঈঞ্জিন স্বল্পতার কারণে দেড় ঘণ্টা দেড়িতে ছেড়ে গেছে। সেটা কানেকটিং ইঞ্জিন ছিল, বুড়িমারী থেকে যেটা আসছে সেটা কাজ করে চলে গেছে, সেটার জন্য দেড় ঘন্টা লেইট হয়েছে। আর এগারসিন্ধু ট্রেনটি রিপ্লেসমেন্টের কারণে ৫০ মিনিট দেড়িতে ছেড়ে গেছে।
“১৮টি ট্রেন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সবগুলো ট্রেনই সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে, দুইটা ট্রেন মাত্র ইঞ্জিন স্বল্পতা বা কানেকটিংয়ের জন্য দেড়িতে ছেড়ে গেছে। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যাত্রী সাধারণ খুব একটা বিড়ম্বনার স্বীকার হয়নি।”
এদিন ৪৩টি আন্ত:নগর ট্রেন, ২৫টি মেইল ট্রেন ও কমিউটার ট্রেন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রেলের এই কর্মকর্তা।।
শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা সবগুলো ট্রেন সঠিক সময়ে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। কোন রকমের যান্ত্রিক সমস্যা না হলে সাধারণত ট্রেন বিলম্ব হয় না। আগে থেকে কোন ট্রেন বিলম্ব হবে জানতে পারলে আমরা যাত্রীদের মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেই। আর হঠাৎ করে যান্ত্রিক কোন সমস্যা হলে আর সেটার সুযোগ হয় না।”
বিনা টিকেটে যাতে কোনো যাত্রী টেনে চড়তে না পারেন সেজন্য তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেলের এই কর্মকর্তা।
“ট্রেনে এবং স্টেশনে আমরা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য রেখেছি। আমাদের জিআরপি এবং আরএমপি সবাই পুরোদমে কাজ করছে।”
যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে শাহাদাত হোসেন বলেন, “আজকে মেইল এবং আন্তনগর মিলিয়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার যাত্রী ট্রেনে ঢাকা ছাড়বে। ২৭ এবং ২৮ তারিখে স্টেশনে ভিড় বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। শেষ সময়ে যারা টিকেট ছাড়া ট্রেনে আসে এর জন্য আমরা ২৫ ভাগ স্ট্যান্ডিং টিকেট প্রতিদিন দিচ্ছি। এবার সবগুলো ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়বে।”
ঢাকার মিরপুরে বাঙলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কামরুজ্জামান বলেন, “একতা এক্সপ্রেসে বাড়ি যাব। ট্রেন আসছে সময়ের ৫ মিনিট আগে।"
জামালপুর একেপ্রেসের যাত্রী ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী আফরিণ নাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অগ্নিবীণার টিকিট কাটতে চেয়েছিলাম, দেখি এক মিনিটেই শেষ। পরে জামালপুর এক্সপ্রেসের টিকেট পেয়েছি। আমরা বাড়ি যাব, ট্রেন তো এখনই এসে পড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছে।”
রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ঢোকার মুখেই বাঁশ দিয়ে কয়েকটি প্রবেশপথ বানানো হয়েছে। তিনধাপে টিকেট পরীক্ষা করে তারপর যাত্রীরা ঢুকতে পারছেন স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মের ভেতরে। দুই একজন বিনা টিকেটের যাত্রী পেলে তাদের থেকে ৫০ টাকা জরিমানাসহ গন্তব্য স্টেশনের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
শাহাদাত এর আগে বলেন, “এ বছর ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে মোট ৬০টি ট্রেন প্রতিদিন ছেড়ে যাবে।
“এসব ট্রেনে ঢাকা থেকে প্রতিদিন ৬০ হাজারের বেশি টিকেট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ২৫৭টি টিকেট আন্তঃনগরের, বাকি ২৭ হাজার টিকেট লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের।"
এছাড়া ঈদে অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য মোট ৪৪টি (পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ২৮টি মিটারগেজ ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে ৩৬টি ব্রডগেজ) যাত্রীবাহী কোচ সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোট ১৯টি (মিটারগেজ ১৪টি ও ব্রডগেজ থেকে ৫টি) লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী ট্রেন ব্যবহারের পরিকল্পনাও আছে।
স্পেশাল ট্রেনের মধ্যে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ঢাকা-চট্টগ্রাম, জয়দেবপুর-পার্বতীপুর, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চারটি প্রতিদিন আর ঈদের দিন শুধু ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে ট্রেন চলবে।
ঈদের দিন আন্তঃনগর কোনো ট্রেন চলবে না বলে জানিয়েছেন শাহাদাত।