Published : 29 Dec 2024, 07:32 PM
জানুয়ারি থেকে ৩০ হাজার এবং জুলাই থেকে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা জানুয়ারি থেকেই ৩৫ হাজার টাকার দাবিতে শাহবাগে সড়কে অবস্থান করছেন তারা।
তাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেই তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে রোববার সন্ধ্যায় বলেছেন আন্দোলনকারীদের এক সমন্বয়ক।
সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালিয়ে সড়কে বসে থাকতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের একাংশকে। অন্যরা ওই মোড়ের বিভিন্ন অংশে জটলা করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন।
দিনের প্রথমভাগ থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক অবরোধ করে চিকিৎসকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় শাহবাগসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা হাসপাতালগুলোতে কাজে যোগ না দেওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকদের সমন্বয়ক ডা. মো. নুরুন্নবী রোববার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকারের দেওয়া ৩৫ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তার তারা মেনে নিয়েছেন। তবে তা জুলাই নয়, জানুয়ারি থেকেই দিতে হবে।
“আমরা উপদেষ্টা মহোদয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান স্যারের সঙ্গে মিটিং করেছিলাম। তারা বলেছিলেন ’জানুয়ারি থেকে ৩০ হাজার, জুলাই থেকে ৩৫ টাকা ভাতা দেবেন’। আমাদের দাবি ছিল ৫০ হাজার টাকা, সে দাবি থেকে আমরা সরে এসেছি। এখন আমাদের দাবি হল যদি আপনারা ৩৫ হাজার টাকা দেন তাহলে তা জানুয়ারি থেকেই দিতে হবে। শাহবাগে আমরা এখনও অবস্থান করছি। আমাদের দাবি পূরণ হলে আমরা এখান থেকে চলে যাব।”
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে রোববার সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন চিকিৎসকরা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা শাহবাগের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেনে।
এরপর দুপুরের পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুরের হেয়ার রোডের বাসায় আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক হয়।
সেখানে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ডা. মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. জহিরুল হক শাকিল, এনডিএফের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. আতিয়ার রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে ছিলেন ডা. জাবির হোসেন, ডা. নুরন্নবী ও ডা. ইমরান শিকদার।
এনডিএফ নেতা আতিয়ার রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তাদের ভাতা বাড়ানোর একটা দাবি ছিল। বৈঠকে অধ্যাপক সায়েদুর স্যার সরকারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
“তবে সেটা এখন থেকেই দেওয়া যাবে না, সামনের বাজেটে এটা দেওয়া হবে। আমি যতদূর বুঝেছি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা সেটা মেনেই এখান থেকে গিয়েছেন।"
তিনি বলেন, "তারা একটা দাবি করেছেন, সরকারের অবস্থাও বিবেচনা করতে আমরা তাদের অনুরোধ করছি। তারা রাস্তায় থাকলে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়; তারা যেন কাজে ফিরে যান।"
ওই বৈঠক থেকে শাহবাগে এসে সিদ্ধান্তের কথা জানান সমন্বয়ক ডা. মো. নুরুন্নবী। এ সময় আন্দোলনকারীরা সমস্বরে মানি না মানি না বলে চিৎকার করে স্লোগান তোলেন।

এসময় তিনি বলেন, “(বৈঠকে) আমরা বলেছি আগামীকাল (সোমবার) দুপুর ১২টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন দিতে হবে, পরে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।”
এসময় আন্দোলনকারীরা সমস্বরে মানি না মানি না বলে চিৎকার স্লোগান তোলেন।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের একজন মোহাম্মদ তানভীর রহমান দীপ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের দাবি ছিল ৫০ টাকার ভাতা। আলোচনার মাধ্যমে সরকার বলেছে ৩৫ টাকা ভাতা দেবে, সেটাই আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু ৩৫ হাজার টাকা দিতে হবে জানুয়ারি মাস থেকে। এ বিষয়ে সোমবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।”
সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেখা গেছে, শাহবাগ মোড়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে সড়কে বসেছিলেন চিকিৎসকরা। সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা।
সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্কমকে বলেন, “তারা এখনও রাস্তা অবরোধ করে আছে। ফলে যান চলাচল বন্ধ আছে। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছি। তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে ওঠানো যায় কি না সে চেষ্টা করছি।”
সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে উচ্চতর শিক্ষার পাশাপাশি তারা হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেন।
ভাতা বাড়ানোর দাবিতে ২০২২ সাল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। তাদের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে জুলাই মাসে মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়।
পরে ওই ভাতা ‘যৌক্তিক নয়’ দাবি করে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন আন্দোলনকারীরা।
অর্ন্তর্বতী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও ভাতা বাড়ানোর দাবিতে চিকিৎসকরা আন্দোলন শুরু করেন। ২২ ডিসেম্বর তারা শাহবাগে সড়ক অবরোধ করলে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সারজিস আলমের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে তারা রাস্তা ছাড়েন।
এ অবস্থায় অর্থ বিভাগ গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) এর এফসিপিএস প্রথম পর্ব পাস করা অবৈতনিক প্রশিক্ষণার্থীদের পারিতোষিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সে সময় ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডাক্তারদের সঙ্গে ওয়াদা বরখেলাপ করা নতুন কিছু না। কিন্তু এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।”
জুলাই থেকে ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৩৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব