০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, মুখ চেপে ধরল পুলিশ

তিন বছর আগে বিএনপির এক কর্মী হত্যার মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে আদালতে আনা হয়েছিল।

আদালতে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, মুখ চেপে ধরল পুলিশ
আদালতে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম তারেক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2025, 11:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:13 PM

ঢাকার একটি আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া শুরু করেন ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম তারেক। তবে এসময় তার মুখ চেপে ধরেন তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত চত্বরে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে পল্টন থানার ২০২২ সালে করা মামলার আসামি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এই প্রচার সম্পাদক।

এদিন তাকে রিমান্ড নেওয়ার শুনানির জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামানের আদালতে আনা হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক তাকে একদিনের পুলিশ হেফাজতে দিয়েছেন।

এরপর তারেককে আদালত থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন একজন পুলিশ সদস্য। যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের দেখে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন তিনি। এসময় ওই পুলিশ সদস্য তার মুখ চেপে ধরেন। পরে তাকে আবার এজলাসে আসামির কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে কিছুক্ষণ রেখে নিরাপত্তা বাড়িয়ে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতকড়া পড়িয়ে তারেককে পরে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেসময়ও কথা বলতে চেষ্টা করেন তিনি। তখন বাধা দেন পুলিশ সদস্যরা। আবারও তিনি স্লোগান দেন। এসময়ও পুলিশ সদস্যরা তার মুখ চেপে ধরেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বলেন, ছাত্রলী লীগ নেতা তারেককে গত ২ অগাস্ট খিলগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৪ অগাস্ট ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন। ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে শুনানির জন্য সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম তারেক।

আদালতে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম তারেক।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামির পক্ষে রামিম হোসেন মোল্লা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন তারেক।

তিনি বলেন, “এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আর ছাত্রলীগের কমিটি দেয় ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই। ঘটনাস্থলে আমার ফিজিক্যাল উপস্থিতি, কোনো ফোন রেকর্ড বা সিমের লোকেশন এমন কিছু পেয়েছে কি না। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা নেই।'

এসময় বিচারক তার কাছে জানতে চান, পেশা কি? তখন তিনি বলেন, বেকার।

৫ অগাস্টের আগে কি করতেন? বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, মাস্টার্স করেছি। থিসিস করা হয়নি। ৫ অগাস্টের পর আর ক্যাম্পাসে যাইনি। আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ঘুরে ফিরে থাকি। থিসিসটা শেষ হলে হয়তো কিছু করে খেতে পারতাম।”

এরপর আদালত থেকে তার একদিনের রিমান্ডের আদেশ আসে।

মামলার তথ্য বলছে, বিএনপি ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ মামলায় তারেককে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড চায় পুলিশ।