নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরের পাঠানোর পর কমিশনকে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেছিল।
Published : 10 Mar 2025, 06:33 PM
নাশকতার মামলায় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৩ কর্মকর্তাকে জামিন দিয়েছে আদালত।
তাদের মধ্যে সোমবার শুনানি নিয়ে ছয়জনের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান। এর আগে রোববার সাত জনের জামিন আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা।
সোমবার জামিন পাওয়ারা হলেন- বিএসইসির সহকারী পরিচালক জনি হোসেন (৩১), রায়হান কবীর (৩০), আব্দুল বাতেন (৩২), সাজ্জাদ হোসেন (৩০), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ (২৯) ও উপ-পরিচালক আল ইসলাম (৩৮)।
আগের দিন যারা জামিন পেয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন-বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম (৫৭) ও রেজাউল করিম (৫৪), যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল ইসলাম (৪৮), উপ-পরিচালক বনী ইয়ামিন (৪৫) ও শহিদুল ইসলাম (৪২), লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী (৩১) এবং অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম (৫০)।
আদালতের শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, “গতকাল সাতজন এবং আজ ছয়জন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।”
গত ৬ মার্চ রাতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় ১৬ জনকে আসামিকে করে এ মামলা দায়ের করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের গানম্যান আশিকুর রহমান।
অপর আসামিরা হলেন- বিএসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান (৫৮), পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লা (৫১) ও উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম (৩২)।
গত ৪ মার্চ নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ পাঁচ দাবিতে পরদিন কমিশনকে অবরুদ্ধ করেন সংস্থাটির একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী। পরে সেনা নিরাপত্তায় কমিশন সদস্যরা কার্যালয় ছাড়েন।
এরপর ৬ মার্চ কর্মবিরতি পালন করেন বিএসইসির কর্মীরা। ওইদিন বিকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তিন কমিশনারকে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ। তখন তিনি বলেছিলেন, কোনো অন্যায় দাবির কাছে মাথা নথ করবেন না।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ মার্চ কমিশনের সভাকক্ষে নির্ধারিত সভা চলাকালে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন আসামিরাসহ আরো কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, কমিশনের মূল ফটকে তালা দেন। বন্ধ করে দেন সিসি ক্যামেরা, ওয়াইফাই ও লিফট।
আসামিরা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে মারাত্মক ‘অরাজকতা ও ভীতিকর’ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।