১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংঘাত: কুর্মিটোলা হাসপাতালে আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

গুরুতর আহতদের বক্তব্য শুনে সরকার প্রধানকে আবেগাপ্লুত হতেও দেখা যায়।

সংঘাত: কুর্মিটোলা হাসপাতালে আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার সময় আহতদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন, পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। ছবি: পিএমও।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2024, 07:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:08 AM

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে এবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে তিনি তাদের খোঁজ-খবর নেন। 

আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন সরকার প্রধান। গুরুতর আহতদের বক্তব্য শুনে তাকে আবেগাপ্লুত হতেও দেখা যায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গড়ে উঠা আন্দোলনে গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘাত হয় আন্দোলনকারীদের।

পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সংঘর্ষে এক ছাত্রলীগ কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চট্টগ্রামে মুরাদনগরে ছাত্রদল নেতা, পথচারীসহ তিনজন এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়।

আবু সাঈদ নামে ইংরেজি বিভাগের সেই ছাত্রকে পুলিশের গুলি করার ছবি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয় ছাত্ররা। ১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা আসে।

এই কর্মসূচি ঘোষণার দিন ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে ছাত্রদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ছাত্ররা আদালতে ন্যায়বিচার পাবে বলে তার বিশ্বাস। প্রাণহানির তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন, আহত ও নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও আসে।

তবে ১৮ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে ঢাকার বাড্ডা ও উত্তরায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। গুলিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন বিকেলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা হয়।

পরের দিনও ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মহাখালী এলাকার পরিস্থিতি ছিল সংঘাতপূর্ণ। সেদিন মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে। রাতে আসে কারফিউয়ের ঘোষণা।

কারফিউয়ের মধ্যেও সংঘর্ষ চলতে থাকে যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, মোহাম্মদপুরে। অবশেষে ২১ জুলাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই পাঁচ দিনের সংঘাতে সরকারের হিসাবে ১৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে, যদিও গণমাধ্যমে দুই শতাধিক মৃত্যুর কথা উঠে আসছে।

এসব ঘটনায় আহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ, তারা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি।

প্রধানমন্ত্রী গত কয়েকদিনে আহতদের দেখতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন-নিটর (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে।

সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই দিন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে সহিংসতায় প্রাণ ও সম্পদহানি নিয়ে কথা বলেন। তিনি এসব ঘটনার তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতাও কামনা করেন।

তিনি বলেন, “স্থাপনা যে ধ্বংস করেছে সেগুলো তো পুনর্গঠন করা যাবে, কিন্তু যে প্রাণগুলো ঝরে গেল সেগুলো তো আমরা আর ফিরে পাব না।”

এর আগে সহিংসতার তদন্ত চেয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন ৭৪ জন নাগরিক।