বৃহস্পতিবার শাহবাগে অবরোধের সংবাদ সংগ্রহের সময় সংবাদভিত্তিক টেলিভিশনটির দুই কর্মী হামলার শিকার হন।
Published : 14 Jul 2024, 08:24 PM
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলন চলাকালে ঢাকার শাহবাগে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও যন্ত্রপাতি কেড়ে নেওয়ার এবং হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছে সময় টেলিভিশন।
রোববার শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার নেই।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সময় টেলিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার (এইচআর ও অ্যাডমিন) সৈয়দ আসাদুজ্জামান শনিবার রাতে মামলাটি করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে কোটা আন্দোলনকারীদের বাংলা ব্লকেড নামে অবরোধ চলার সময় সময় টিভির প্রতিবেদক ত্বোহা খান তামিম ও ক্যামেরা পারসন সুমন সরকারের পর চড়াও হয় একদল শিক্ষার্থী।
মামলার প্রাথমিক অভিযোগে সময় টিভি বলেছে, তাদের দুই কর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর তাদের উদ্দেশে বড় বড় ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারা হয়, যার একটি তামিমের বাম হাতে আঘাত করে।
আন্দোলনকারীরা সুমনের হাত থেকে ক্যামেরা ও সরাসরি সম্প্রচারের ডিভাইসটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ও তামিমের মাথার হেলমেট খুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে আঘাত করে।
হামলাকারীরা তামিম ও সুমনকে প্রাণনাশের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন সংবাদ সংগ্রহের সময় সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক ত্বোহা খান তামিম ও চিত্র সাংবাদিক প্রিন্স আরেফিনকে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া' বলে ধাওয়া করে একদল শিক্ষার্থী; ভাঙচুর করা হয় আরেফিনের হাতে থাকা ভিডিও ক্যামেরা।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বাঁধা ও কালো রঙের জার্সি পরা এক যুবক সাংবাদিক তামিমের ওপর হামলা করেন। আরেকজনের হাত থেকে হেলমেট নিয়ে তামিমকে মারতে তেড়ে আসেন ওই যুবক।
এ সময় কয়েকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পুলিশে সদস্যদের।
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সময় টিভির ওপর আমাদের কোনো আক্রোশ নাই। আন্দোলনকারীদের কেউ অতি উৎসাহী হয়ে হামলা করে থাকলে আমরা খতিয়ে দেখব।”
‘বহিরাগতরাও’ হামলা করে থাকতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ ধরনের হামলা করে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি।”
বৃহস্পতিবার শাহবাগের ঘটনায় পুলিশও একটি মামলা করে। তাতে বাহিনীটির একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও একটি জলকামানের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৮ সালে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র হাই কোর্ট অবৈধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছে। তারা প্রথমে সেই পরিপত্র ফিরিয়ে আনা অর্থাৎ কোটা তুলে দেওয়ার দাবি জানালেও পরে সংস্কারের দাবি তুলেছে।
হাই কোর্টের এই আদেশে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দিয়ে আপিল বিভাগ শুনানির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সেই শুনানিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
তবে শিক্ষার্থীরা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে কোটার বিষয়ে ফয়সালা চাইছেন, আর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে মঙ্গলবার বাদ দিয়ে প্রতিটি কর্মদিবসেই বাংলা ব্লকেড নামে অবরোধ কর্মসূচি পালন করায় যান চলাচলে তীব্র ভোগান্তি হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করলেও বৃহস্পতিবার থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, একাধিক এলাকায় বাধাও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও বলেছেন, কোটার বিষয়টি ফয়সালা হবে আদালতেই। আর রাস্তায় ধ্বংসাত্মক কিছু হলে আইন ‘নিজস্ব গতিতে চলবে।’
অন্যদিকে রোববার শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে নিতে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে।
বঙ্গভবনে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে গুলিস্তানে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি মামলা তুলে নেওয়া না হয় আমাদের কর্মসূচি আরও কঠোর হবে। পুলিশ কর্মকর্তাদের এর দায় নিতে হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অবশ্য বলেছেন, “আন্দোলনকারীরা যতই মামলা তোলার আল্টিমেটাম দিক, মামলার তদন্ত চলবে। মেরিট দেখেই মামলা করা হয়েছে।”
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কোটা আন্দোলনে উসকানিদাতা রয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থীরা না বুঝেই কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে।”