Published : 17 Aug 2025, 08:03 PM
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী অন্যের লেখা’ এবং এর বিনিময়ে ‘নগদ টাকা ও ফ্ল্যাট দেওয়ার’ অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টির তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আইনি নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব এ নোটিস পাঠান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্মজীবনী নিয়ে ২০১২ সালে প্রকাশিত এ বই নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসার পর দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিস পাঠানোর তথ্য দিয়ে মামুন বলেন, নোটিস পাওয়ার পর দুদক কোনো ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, শনিবার (১৬ অগাস্ট) বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ মুজিবের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লিখে দিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পদ বাগিয়েছিলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী। এছাড়া এ বই লেখার সঙ্গে জড়িত জাবেদ পাটোয়ারীর দলের ১২৩ সদস্যের প্রত্যেককে একটি ফ্ল্যাট এবং এক কোটি টাকা করে দেওয়া হয় বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
‘পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নথির ভিত্তিতে’ চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনের বরাতে আইনজীবী মামুন বলেন, ২০১২ সালে প্রকাশ পায় শেখ মুজিবুর রহমানের ’অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। বইটির ভূমিকায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, শেখ মুজিবের চারটি খাতা ঘেঁটে সম্পাদনা-সংশোধনের পর প্রকাশ করা হয়েছে বইটি; যাতে উঠে এসেছে পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নানা ঘটনা ও চক্রান্তের গল্প।
“কিন্ত এসবির একাধিক নথিতে দেখা যাচ্ছে এই বইটি আসলে লিখেছেন সাবেক পুলিশ প্রধান জাবেদ পাটোয়ারী ও তার নেতৃত্বে ১২৩ সদস্যের একটি দল। এসবির প্রধান হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্য এবং আনুগত্য নিশ্চিত করতে বইটি লেখেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার দল।”
তিনি বলেন, একজনের নামে অন্যে বই লিখে তা প্রচার করা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। এছাড়া যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে তারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এজন্য তিনি আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এ আত্মজীবনী প্রকাশ করে, যাতে শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সময়ে কারাগারে আটক থাকার দিনগুলোর পাশাপাশি তার রাজনৈতিক জীবন ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে জেল ও জেলের বাইরের জীবন, বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান ও পবিার-পরিজনের কথাও বলেছেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি।
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সম্পাদনায় ২০১২ সালের ৯ জুলাই এটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রথমে বাংলা ও ইংরেজীতে এটি প্রকাশ করা হয়। পরে আরও অনেক ভাষায় এটা প্রকাশিত হয়েছে। অসমাপ্ত এ আত্মজীবনীর ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফখরুল আলম।