Published : 01 Jan 2026, 01:54 PM
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব এবং পুঁজিবাজারে তাদের দুটি বিও হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, এদিন দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক রাসেল রনি এসব ব্যাংক হিসাব ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, বিপ্লব কুমার সরকার ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। বিপ্লব কুমার সরকার ও হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ব্যাংক ও বিও হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব হিসাব অবরুদ্ধ করা দরকার।
গত ৯ ডিসেম্বর বিপ্লব কুমার সরকার, তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, ভাই প্রণয় কুমার সরকার ও হোসনেয়ারার বোন শাহানারা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় একই আদালত।
২১তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে চাকরি নেওয়া বিপ্লব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জগন্নাথ হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পুলিশের চাকরিতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় পুরোটা সময় তিনি দাপুটে কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০১১ সালের ৬ জুলাই বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের পিটুনির শিকার হন। সেসময় তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ এবং অতিরিক্ত উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ওই ঘটনার নেতৃত্ব দেন।
জয়নাল আবেদীন ফারুককে ধাওয়া করে জামা খুলে নেওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হলে তা ভাইরাল হয়। এরপর থেকে বিপ্লব ও হারুনের প্রভাব পুলিশ বিভাগে ছড়িয়ে পড়ে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ মুহূর্তে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লবকে প্রশাসন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) দক্ষিণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সে বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বিপ্লব কুমার সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার পতনের পর থেকেই তার হদিশ মিলছে না।