Published : 27 Dec 2025, 10:26 AM
এক বছর আগে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় দুর্ঘটনায় পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এক হয়ে পড়েছেন ইকবাল হোসেন।
তার ভাষ্যে, “অনেক কঠিন সময় যাচ্ছে, এক নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে।”
আলাপচারিতায় ইকবাল জানালেন, স্ত্রী আমেনা আক্তার আর তিন কন্যা নিয়ে ছিল সংসার। বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে রিহা মনিকে নিয়ে জুরাইনে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। বড় দুই মেয়ে ও তাদের সন্তানদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো বাসাটি।
কিন্তু গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় সড়ক দুর্ঘটনায় আমেনা আক্তার (৪৫), বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৬) ও ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১) মারা যান। মারা যান ইসরাতের দুই বছরের ছেলে আইয়াজ হোসেনও।

সেদিন টোলপ্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটর সাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয় বেপারী পরিবহনের একটি বাস। এতে ওই চার জনসহ মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী নিপা আক্তার রেশমা (২৬) এবং তাদের ৭ বছরের ছেলে মো. আবদুল্লাহ মারা যান।
এ ঘটনায় আমেনা আক্তারের ভাই নুরুল আমিন পরদিন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত ২৮ অক্টোবর চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সীগঞ্জের হাসাড়া হাইওয়ে থানার এসআই মো. আব্দুর রহমান।
আসামিরা হলেন—বেপারী পরিবহনের চালক নুর উদ্দিন (২৯), বাস মালিক মোস্তফা রাঢ়ী (৬৫), মোস্তফার ছেলে পারভেজ রাঢ়ী (২৭) এবং বেপারী পরিবহন ব্যানার ব্যবহারকারী ডাবলু বেপারী (৪৭)। তারা সবাই জামিনে আছেন।
পরিবারের সদস্যদের হারানোর শোক এক বছরেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ইকবাল হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার তিন মেয়ে ছিল। এদের মধ্যে দুই মেয়ে মারা গেছে। আমার স্ত্রী, একটা নাতিও মারা গেছে। এখন কঠিন অবস্থায় আছি। একা একা থাকি।”
ইকবাল বলেন, “এভাবে জীবনটা চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক কঠিন সময় যাচ্ছে। নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে।
“মেয়েরা আমার কলিজার টুকরো ছিল। কিন্তু দুই মেয়ে এখন আর নেই। টোল প্লাজায় শেষ হয়ে গেছে।”
ইকবাল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় যারা দোষী, তাদের বিচার চাই। এটা যেন সড়ক দুর্ঘটনা আইনে না হয়ে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়ে মামলার বিচার হয়।
“কারণ ওই গাড়ির চালক ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনায় চার্জশিট দিয়েছে। আমরা চাই, মামলাটা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হোক।”
মামলার বাদী নুরুল আমিন বলেন, “পরিবারের চারজন সদস্যকে হারিয়েছি। আরও দুইজন মারা গেছে। আমেনা আমার ছোট ছিল। ও যখন কলেজে পরীক্ষা দিতো—আমি নিয়ে যেতাম, নিয়ে আসতাম।
“অনেক স্মৃতি ওর সাথে। এসব স্মৃতি মনে পড়লে কষ্টে বুক ফেটে যায়। আর দুই ভাগ্নি এতো ভালো ছিল; যাদের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।”
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হন মামলার বাদী নুরুল। অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে গত ১৮ ডিসেম্বর নারাজি দাখিল করেছেন তিনি। আগামী ২১ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেছেন ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাজ্জাদুর রহমান।
টোলপ্লাজায় ৬ প্রাণহানির এক বছর: অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নন বাদী