Published : 10 Dec 2025, 11:45 PM
জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়ে পিছপা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
বুধবার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনাটি ‘ভুল করে জারি হয়েছিল’ দাবি করে অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেছেন, সেটি বাতিল করা হবে।
গণভোট নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচার চালাতে সরকারের পক্ষে থেকে এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি মন্তব্য করে এ কর্মকর্তা বলেছেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে তখন আবার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
বুধবার অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো এক নির্দেশনায় ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যানার টানিয়ে গণভোটের প্রচার’ এবং ‘গণভোটের ধারণা ও সাংবিধানিক ভিত্তি সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবহিতকরণসহ’ ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশাসন শাখার পরিচালক মো. মাসুদ হোসেনের সই করা নির্দেশনাটি এদিন অধিদপ্তরের সব পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সব বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক, সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউপিটিসি ইন্সট্রাক্টর ও পিটিআই সুপারিনটেন্ডন্ডদের পাঠানো হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আতাউর রহমান ওই নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।
রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান এদিন সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গণভোটের প্রচার চালানোর একটি নির্দেশনা পেয়েছি, সেটি ডকেটভুক্ত করা হয়েছে। সব শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যার যার ক্ষেত্রে গণভোট নিয়ে প্রচার চালাতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।”

চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আতাউর রহমান এদিন রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গণভোটের প্রচার চালাতে অধিদপ্তর যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটি পেয়েছি।”
এ নির্দেশনার বিষয়ে অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক মো. মাসুদ হোসেনের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।
অধিদপ্তরের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
>> জুলাই জাতীয় সনদের মূল তথ্য ও কাঠামো সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা বিধি সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> গণভোট-সংক্রান্ত সরকারি প্রশাসনিক তথ্য সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> সনদ-সংক্রান্ত শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> ভুল তথ্য প্রতিরোধ ও তথ্য যাচাই সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো।
>> গণভোটের বিষয়বস্তু ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণ।
>> বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং এর সঙ্গে গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জানানো।
>> অভিভাবকরা যেন গণভোটে ভোট দেন সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা।