Published : 22 Jun 2026, 06:38 PM
নতুন অর্থবছরের বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দীর্ঘ সময় দলীয় নেতাদের স্মৃতিচারণ ও নিজ নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার পর বিএনপির এমপি এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুকে থামিয়ে দিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সভাপতি বললেন, “আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই। দুই মিনিটে আপনার বক্তব্য শেষ করেন।”
সোমবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার মধ্যে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন বাজেট আলোচনার প্রথম বক্তা ছিলেন সুলতান মাহমুদ বাবু। সাত মিনিট সময় নিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি প্রথমে কোরআন তেলাওয়াতের উদ্ধৃতি দেন। এরপর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “বৃদ্ধাশ্রমের নাম আমরা শুনেছি। যারা পিতা-মাতার প্রতি অত্যন্তভাবে অখুশি, তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে নেওয়া যায়।”
এরপর তিনি নিজের নির্বাচনি এলাকার বিদ্যুৎ সংকট, কৃষকের দুর্ভোগ ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
সুলতান মাহমুদ বলেন, “এলাকায় গিয়েছিলাম। বিদ্যুতের অবস্থা খুব খারাপ। একবার আসলে দুই-তিন ঘণ্টা পরে চলে যায়। আবার তিনদিন থাকে না। জমিজমা থেকে শুরু করে ফসলের কষ্ট, ফসল মারা যাচ্ছে, মানুষের কষ্ট হয়, ছাত্রছাত্রীর কষ্ট হয়।”
এ সময় তিনি আরও সময় চান। তখন স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বলেন, “আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই। দুই মিনিটে আপনার বক্তব্য শেষ করেন।”
তখন বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, “এলাকার মানুষ তিন তিনবার এই মহান জাতীয় সংসদে আমাকে পাঠিয়েছে ভোটের মাধ্যমে। এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়।
“ওই এলাকার মানুষের জন্য ৭১ বিধিতে এবং পরবর্তী সময় যদি আমি সময় পাই, ওই এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমি কথা বলব।”
এরপর বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
সংসদ টিভির পর্দায় এমপিদের নাম দেখানোর নির্দেশ
এর আগে অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের দেওয়া দুটি বিশেষ অধিকার নোটিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানান স্পিকার।
রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তার নোটিসে বলেন, প্রায় চার মাস হয়ে গেলেও অনেক সংসদ সদস্য একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেননি। সংসদ অধিবেশনের টেলিভিশন সম্প্রচারে সদস্যদের ছবি দেখা গেলেও তাদের নাম ও নির্বাচনি এলাকা দেখানো হয় না।
তিনি প্রস্তাব করেন, সংসদ টিভির পর্দায় বক্তার নাম ও নির্বাচনি এলাকা প্রদর্শন করা হলে সদস্যদের মধ্যে পরিচিতি সহজ হবে।
স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্যের নোটিসটির বিষয়টি খুবই যুক্তিযুক্ত। আমি সংসদ সচিবালয়কে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।”
তবে বিষয়টি বিশেষ অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় জানিয়ে কার্যপ্রণালী বিধির ৫৪(৩) অনুযায়ী নোটিসটি গ্রহণ করেননি তিনি।
সংসদ ভবন মেরামতের আহ্বান
শেরপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়া এবং অবকাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে বিশেষ অধিকার নোটিস দেন।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান; এর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্যের নোটিসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তবে এটিও সংসদ সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয় হওয়ায় বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রশ্ন হিসেবে নোটিসটি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।