১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় দানা: সকালে পরিণত হতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে

ভারতের উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল দিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে এটি অতিক্রম করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Oct 2024, 02:49 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:46 AM

পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। 

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় দানা চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ- দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

সেসময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় দানা আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘণীভূত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসেও ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়টির সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাদের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় দানা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে ভারতের পুরি ও সাগর দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তখন বাতাসের গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।

তবে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার ঘূর্ণিঝড়ের যে সম্ভাব্য গতিপথ দেখিয়েছে, তাতে দানা বৃহস্পতিবার দুপুরে ওড়িশার বালাসোর এলাকা দিয়ে উপকূলে উঠে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির পর তা ধাপে ধাপে শক্তিশালী হয়ে বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পায়।

তখন সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের তালিকা অনুযায়ী এ অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয় 'দানা'। এটা কাতারের দেওয়া নাম, যার অর্থ অতি সুন্দর ও মূল্যবান মুক্তা।

আবহাওয়া অফিস বলেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জের আরিচায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরায় ৩৪, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে ২৯ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে।

সবশেষ গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ বাংলাদেশ উপকূল ও পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানে। ওই ঝড়ের তাণ্ডবে বাংলাদেশ ও ভারতে মোট ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:

ঘূর্ণিঝড় 'দানা' মোকাবিলায় উপকূলীয় জেলায় নানা প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় দানা: চার বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

ঘূর্ণিঝড় 'দানা': উপকূলীয় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা

ঘূর্ণিঝড় দানা: বরিশালে প্রস্তুত ৫৪১ আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় 'দানা': ভোলায় প্রস্তুত ৮৬৯ আশ্রয় কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় 'দানা' মোকাবেলায় ঝালকাঠিতে প্রস্তুত ৮৮৫ আশ্রয়কেন্দ্র