০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রাহকদের ‘অর্থ আত্মসাৎ’: অগ্রণী ব্যাংকের বরখাস্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে, ধারণা দুদকের।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 09:15 PM

Updated : 08 Oct 2026, 09:15 PM

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় ভুয়া স্থায়ী আমানত (এফডিআর), জাল চেক ও ভুয়া জমার রশিদ ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত ছয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৯১ জন গ্রাহকের ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ ঘটনায় প্রথমে ৪ অক্টোবর ব্যাংকটির ওই শাখার সাময়িক বরখাস্ত কর্মকর্তা মো. শরীফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই শাখার ক্যাশ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান দল পরে তাকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখায়।

এরপর ৭ অক্টোবর দুদকের অনুসন্ধান দল শ্রীনগরে গিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক ব্যবস্থাপক মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহম্মেদ ও আব্দুল হাই।

দুদক বলছে, ব্যাংকের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের অতিরিক্ত সুদের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া এফডিআর খুলতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া চেক জালিয়াতি, ভুয়া জমার রশিদ তৈরি এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমেও গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মাহাথীর মুহাম্মদ সামী। অন্য সদস্য হলেন উপসহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মো. রবিউল ইসলাম।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধান দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বক্তব্য সংগ্রহ করছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৯১ জন গ্রাহকের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

বাকি গ্রাহকদের বক্তব্য সংগ্রহ ও ব্যাংকের নথিপত্র যাচাইয়ের পর আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে, বলেন তিনি।

দুদকের এই উপপরিচালক বলেন, অনুসন্ধান শেষ হলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে মামলা করবে দুদক।