Published : 25 Dec 2025, 08:07 PM
ঢাকার মগবাজারে ককটেল বিস্ফোরণে সিয়াম মজুমদার নামে এক তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানায় নিহতের বাবা আলী আকবর মামলা করেন বলে এ থানার ওসি গোলাম মর্তুজা জানিয়েছেন।
আগের দিন সন্ধ্যার পর মগবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে ২০ বছরের ওই তরুণের প্রাণ যায়। ককটেলটি সিয়ামের মাথায় সরাসরি আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ধারণা ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল নিচে ছুঁড়ে মারা হয়।
ওসি গোলাম মর্তুজা বলেন, “হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হওয়ার পর থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশের পাশপাশি অন্য সংস্থাও তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি। আমরা সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”
সিয়ামের বাবা আলী আকবর পেশায় রিকশাচালক। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় সিয়াম।
গ্রামের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া এলাকায় হলেও প্রায় চার বছর ধরে ঢাকার নিউ ইস্কাটনের ‘দুই হাজার’ গলির একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকছেন।
আলী আকবর বলেন, সিয়ামের ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে খুলনায় দাফনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “রাত ৮টার দিকে রিকশা গ্যারেজে রেখে বাসায় ঢোকার মুহূর্তে এক ছেলে সিয়ামের বিপদ হয়েছে বলে জানায়। পরে পাগলের মত দৌড়ে সেখানে (ঘটনাস্থল) গিয়ে দেখি সিয়াম নেই, রক্ত আর রক্ত।”
পুলিশ সিয়ামকে হাসপাতালে নিয়েছে তথ্য পেয়ে আলী আকবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। এরপর সেখানে তাকে মৃত দেখতে পান।
আলী আকবর আক্ষেপ করে বলেন, “কারা মারল, কেন মারল, জানতেই পারলাম না।”
মগবাজারে একটি কার ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করছিলেন সিয়াম। কর্মস্থল থেকে বের হয়ে ফুটপাথে চা খেতে গিয়ে ককটেল হামলার শিকার হন তিনি।