মন্দা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

“প্রতিটি জায়গায় কিছু না কিছু উৎপাদন করবেন। নিজেদের যেটা চাহিদা পূরণ করার নিজেরাই চেষ্টা করবেন যেন বিশ্বের এই মন্দার ধাক্কাটা যেন আমাদের দেশে না পড়ে,” বলেছেন সরকারপ্রধান।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Nov 2022, 07:42 AM
Updated : 15 Nov 2022, 07:42 AM

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কটের পূর্বাভাসের মধ্যে দেশবাসীকে আবারও সতর্ক করে সম্ভাব্য মন্দার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেছেন, যাদের জমি আছে, তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ জমিতে কিছু না কিছু উৎপাদন করতে হবে। 

করোনাভাইরাস মহামারীর অভিঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভুগতে হচ্ছে অনেক দেশকে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।  

সে প্রসঙ্গ ধরে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিও ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে’ ধীর হয়ে গেছে। 

“এক দিকে করোনাভাইরাসের অভিঘাত, অপরদিকে রাশিয়া ইউক্রেইনের যুদ্ধ এবং স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন। ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এই মন্দা মোকাবেলার জন্য এখন থেকে আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। 

“প্রতিটি জায়গায় কিছু না কিছু উৎপাদন করবেন। নিজেদের যেটা চাহিদা পূরণ করার নিজেরাই চেষ্টা করবেন যেন বিশ্বের এই মন্দার ধাক্কাটা যেন আমাদের দেশে না পড়ে।” 

সেজন্য সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের এই অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাব।” 

‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, সারাজীবন আগুন, ধোঁয়ায় কাজ করতে হয় বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের অনেকেই অবসর বয়সে নানা রকম রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হয়। 

“এই কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আজীবন রেশন প্রদানের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ৩০ হাজারে উন্নীত করার কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।” 

আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উন্নয়নে যেসব কাজ করেছে, তার বিবরণ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। 

তিনি বলেন, “যে কোনো আগুন লাগলে বা ভূমিকম্প বা দুর্ঘটনা বা কোনো কিছু ঘটলে এমনকি কোনো ভবন ধসে গেলেও এই ফায়ার সার্ভিসই সবার আগে ছুটে যায় এমনকি যখন কোনো জাহাজ বা লঞ্চ বা কিছু পানিতে ডুবে যায়, তখনও এই ফায়ার সার্ভিসকেই আমরা পাই। 

“কাজেই তাদেরকে আরো যুগোপযোগী করা একান্তভাবে প্রয়োজন, আর সেই পদক্ষেপটাই আমরা নিয়েছি এর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং এই সেবার ক্ষেত্রটা সম্প্রসারণ করার বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেবার মানোন্নয়নের পাশপাশি এ সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুবিধার বিষয়েও সরকার আন্তরিক। 

“কারণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছে, তাদের জীবনটা যাতে ভালোভাবে চলে, সেটাও আমাদের দেখার দায়িত্ব।” 

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয়েছে, অপারেশনাল কর্মীদের জন্য কমব্যাট পোশাক প্রবর্তন করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পদকের সংখ্যা ও সম্মানি বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

“ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে আমরা ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছি। আমি মনে করি যেহেতু সংখ্যা বেড়ে গেছে, এখানে আরো ২০ কোটি টাকা আমি এই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টে অনুদান দেব।” 

আওয়ামী লীগ সরকারের বাস্তবসম্মত উদ্যোগের ফলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রত্যেক সদস্যের ‘মনোবল এবং কর্মসক্ষমতা’ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।  

তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালন করা হয় কয়েকটা লক্ষ্য সামনে রেখে। এখানে আমি মনে করি প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আমাদের ছেলে মেয়েদের ছোট বেলা থেকে এবং প্রত্যেকটা বাড়ির গৃহিনী থেকে শুরু করে সকলকেই আগুন লাগলে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত করা যায় সেই প্রশিক্ষণটা দেওয়াও একান্তভাবে দরকার।” 

ঢাকার মিরপুরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।  

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক