Published : 16 Sep 2026, 04:09 PM
সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতা মো. রাশেদ খাঁনকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তাকে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাশেদ এখন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে দেখা করে তিনি এ বিষয়ে তার করা অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই ভাসানটেক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়।
সেখানে তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ ‘হাত-পা ও চোখ বেঁধে এবং মুখে গামছা দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট নির্যাতন করেন’ বলে রাশেদের অভিযোগ।
তার ভাষ্য, ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল; যে মামলার বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না।
রাশেদ বলেন, “আমাকে ১৫ দিন রিমান্ডে রেখে যে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল এবং পরে জেলে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছাড়া এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ এ কাজ করতে পারেন না।”
তার দাবি, যুবদলের নেতা মোস্তাফিজসহ আরও অনেককেই একইভাবে নির্যাতন করেছিলেন ইশতিয়াক।
রাশেদ বলছেন, চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শেই তিনি এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা করে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছেন, যা পরে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বে থাকা অনেককেই তুলে নিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা পদ্ধতি তারা দেখতে পেয়েছেন।
“যেহেতু তিনি (ইশতিয়াক) একাধিক ঘটনা একইভাবে সংঘটিত করেছেন, তাই এটি অবশ্যই ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের (ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক অফেন্স) একটি অংশ।”
তাজুল ইসলাম বলেন, রাশেদ খাঁনের অভিযোগটির তদন্ত চলছে এবং তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
“অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ বলেই প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।”
এ সময় এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিন নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গুম ও হত্যার আরেকটি অভিযোগের কথাও চিফ প্রসিকিউটর বলেন।
তিনি বলেন, মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর দীর্ঘদিন হেফাজতে রেখে হত্যা করে গুম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় ইশতিয়াক আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগে শেখ হাসিনার নাম আছে কি না, সেই প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার নামও যুক্ত হতে পারে।
অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে ‘ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন চিফ প্রসিকিউটর।