২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য-যুক্তিতর্ক অক্টোবরে শেষ করার আশা রাষ্ট্রপক্ষের

“সাক্ষীরা কেউ বাইরের নয়, তার বাহিনীরই লোক,” বলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 05:51 PM

Updated : 27 Sep 2026, 05:51 PM

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে হত্যা ও গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

রোববার ১৩তম সাক্ষী ও তৎকালীন বরিশাল র‌্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাব্বির রহমানের জেরা শেষে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার সাক্ষ্য ও জেরা চলছে।

এদিন জব্দ তালিকার এক সাক্ষীও সাক্ষ্য দিচ্ছেন তুলে ধরে এ প্রসিকিউটর বলেন, পরবর্তী ধার্য তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিতে পারেন।

কবে নাগাদ মামলাটির রায় হতে পারে? জবাবে এ প্রসিকিউটর বলেন, “কবে নাগাদ জাজমেন্ট হবে এটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের। এটা যদি আমি বলে দিই, তা সরাসরি আদালত অবমাননা হবে।

“তবে আমরা আশা করছি, স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবরের মধ্যে উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই মামলায় আমরা যেসব দালিলিক, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছি, তাতে আমাদের মনে হয়েছে অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ আমরা দিতে পেরেছি।

“শুধুমাত্র আলকাস মল্লিক নামের এক মাঝির অপহরণ ছাড়া প্রতিটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আমরা উপস্থাপন করেছি। আর এই সাক্ষীরা কেউ বাইরের নয়, তার বাহিনীরই লোক।”

মেজর সাব্বিরের জেরা প্রসঙ্গে মিজানুল ইসলাম বলেন, জেরায় আসামিপক্ষ সাক্ষীকে ‘ডিসক্রেডিট’ (বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা) করার চেষ্টা করলেও রাষ্ট্রপক্ষের দৃষ্টিতে সাক্ষীর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য উঠে আসেনি।

অন্যদিকে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “এই জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে যে মার্ডারের মামলা নিয়ে আসছে, তৎকালীন পত্র-পত্রিকা ও রিপোর্টে যে নামগুলো ছিল, সেখানে কোথাও জিয়াউল আহসানের নাম নেই।

“যারা এসব করেছে, গুম কমিশন তাদের ডেকে নিয়ে বলছে- আপনারা হয় সাক্ষী হন, নয় আপনাদের আসামি করা হবে।”

সাক্ষীদের প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে এ আইনজীবী বলেন, “জিয়াউল আহসানকে মূলত টার্গেট করা হয়েছে এখানে।”

গুমের অন্য মামলা স্থবির?

গুমের অন্যান্য মামলা স্থবির হয়ে আছে কিনা—এমন প্রশ্নে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, “অন্য গুমের মামলা থেমে আছে, এটার সাথে আমরা একমত নই। আপাতদৃষ্টিতে একটি মামলা চললে অন্য মামলার গতি কিছুটা শ্লথ মনে হতে পারে।

“তবে আমাদের তিন-চারটি মামলা প্রায় যুক্তিতর্কের পর্যায়ে চলে গেছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেই সেগুলো এগিয়ে নেওয়া যাবে।”

এদিকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর এক বিচারক অসুস্থ থাকায় চট্টগ্রামের একটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল শুনানি চালিয়ে যাওয়া সমীচীন মনে করেনি।

গাজীপুরের পাতারটেক মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একই কারণ তুলে দরে মিজানুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিচারকের উপস্থিতির স্বার্থে তা মুলতবি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ভিন্ন ব্যবস্থা নিতে পারেন।