১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধের ‘নির্মোহ ইতিহাস’ জানাতে ব্যর্থ সব সরকার: মুক্তিযোদ্ধা আমান

“মানুষকে যে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা এই প্রজন্মের অনেকেই জানে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা থাকলে, কারো পক্ষেইতো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলার কথা না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Mar 2026, 12:23 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:47 PM

আগের সব সরকারই নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ‘নির্মোহ ইতিহাস’ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে অনুধাবন করতে পারছে না বলে মনে করছেন মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আমান।

স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংকলন ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ এর তৃতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সংকলনের দুটি খণ্ড আগেই প্রকাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আমান।

অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। অথচ তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করেছে। তাদের সংসদ সদস্যরা লুটপাট নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

“মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস তারা জানায়নি। যখন যে সরকার এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তাদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধবিমুখ হয়েছে।”

‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ এর তৃতীয় খণ্ডে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সাড়ে পাঁচশর বেশি আলোকচিত্র এক মলাটে এনে প্রকাশ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ সংকলন প্রকাশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

বীর এই মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে দিল্লি পর্যন্ত ‘বিশ্ব বিবেক জাগরণ পদযাত্রা’ এর আয়োজক দলের দুই নম্বর ডেপুটি লিডার ছিলেন।

১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে দেশটির কিছু রাজ্যের মানুষ নানাভাবে ইন্দিরা গান্ধী সরকারকে চাপ দিতে থাকে৷ তখন ‘বিশ্ব বিবেক জাগরণ পদযাত্রা’ আয়োজনের এ পরিকল্পনা হয়৷ তাতে অংশ নেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাংলাদেশের ৩৮ জন তরুণদের একজন ছিলেন আমান।

তারা ভারত সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান, পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গণহত্যা ও হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা তুলে ধরে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কাজ করেন।

১৯৭১ সালের স্মৃতিস্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধা আমান বলেন, “২৭ মার্চ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেছি– মাটির মধ্যে একটা লাশ, শুধু হাতটা উঁচু হয়ে আছে। শাঁখারী পট্টিতে দেখেছি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

“মানুষকে যে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা এই প্রজন্মের অনেকেই জানে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা থাকলে, কারো পক্ষেইতো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলার কথা না।”

বাম রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও কোনো প্রত্যাশা না থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি বামধারার রাজনীতির মানুষ। কিন্তু আমাদের বামপন্থি রাজনীতি তো ডানপন্থিতে বিলীন হয়ে গেছে। তারাও এখন আর আশা দেখাতে পারছে না। এই দেশের বামদেরতো এখন কোনো জনভিত্তি নেই।

“তারা কেউ আওয়ামী লীগে যায়, কেউ বিএনপিতে যায়। তবে বামপন্থিরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছুটা সত্য বলার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা জনগণের কাছ থেকে অনেক দূরে, যার ফলে তাদের কথা খুব বেশি গুরুত্ব পায় না।”

'রক্তরেখায় বাংলাদেশ': সাড়ে পাঁচশ দুর্লভ আলোকচিত্রে বাঙালির মুক্ত

রক্তরেখায় বাংলাদেশ: দ্বিতীয় খণ্ডে বাঙালির বহুমাত্রিক জনযুদ্ধের ইতিহাস

'রক্তরেখায় বাংলাদেশের' দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন