১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জঙ্গিদের হাতে দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা!

সাভারে উদ্ধার হওয়া দুটি ‘প্রেশার কুকারের’ মধ্যে একটির ‘রিমোট’ পাওয়া গেছে, বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

জঙ্গিদের হাতে দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা!
সাভারের বনগাঁও এলাকায় উদ্ধার করা ‘প্রেশার কুকার’ বোমা।

গোলাম মর্তুজা অন্তু গোলাম মর্তুজা অন্তু

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2026, 01:46 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠে পরপর কয়েকটি বোমা উদ্ধারের পর এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে পুলিশ বলছে, দেশে সক্রিয় হয়ে ওঠা উগ্রবাদীরা এখন দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছে।

দেশে জঙ্গি তৎপরতা আছে কি নেই, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার দুই রকম বক্তব্য নিয়ে আলোচনার কয়েক মাস পর পুলিশ এখন জঙ্গিদের হাতে দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা থাকার কথা বলছে।

আশুলিয়ায় একটি চায়ের দোকানে ফেলে যাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমা থেকে পুলিশ দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্র বা ‘রিমোট’ও পেয়েছে। 

মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা ‘পাইপ বোমা’।

মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা ‘পাইপ বোমা’।

এর দুই সপ্তাহ পর সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে একটি মাঠে যে ‘প্রেশার কুকার’ বোমাটি পাওয়া গেছে, সেটিও দূর নিয়ন্ত্রিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, নব্য জেএমবির বোমা কারিগরদের থেকে দীক্ষা পাওয়া নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, যিনি বোমারু মামুন নামে পরিচিত, ১০ বছর আগেও তিনি ‘প্রেশার কুকার ও পাইপ বোমা’ বানাতেন।

২০১৭ সালের রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিওতে যেই বোমার বিস্ফোরণে একজন ‘আত্মঘাতী’ হয়েছিলেন বলে তখনকার পুলিশ জানিয়েছিল, সেটি ছিল মামুনের তৈরি দুটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা। 

ওই সময় ধারাবাহিক বিভিন্ন অভিযানে নব্য জেএমবির কয়েকজন বোমা কারিগর নিহত হন। আর মামুন সেই সময় থেকেই কারাগারে ছিলেন। 

২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর দল গুছিয়ে মামুন আবারও বোমা বানাতে শুরু করেন, বলছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। 

তবে এখন ‘প্রেশার কুকার’ বোমায় ‘রিমোট ডিভাইস’ সংযুক্তির বিষয়টি পুলিশের কপালে নতুন করে চিন্তা ভাঁজ তৈরি করেছে।

গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে রাজধানীর সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামুন ও তার শিষ্য আরিফ ওরফে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

তখন থেকেই মামুনকে খুঁজছিল পুলিশ। এরপর গেল জুলাইতে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে ‘প্রেশার কুকার’ বোমা ফেলে রাখার ঘটনাতেও মামুন-আরিফরা জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। 

সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি হাতবোমা। 

সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি হাতবোমা।

তল্লাশি করে ওই বাড়ি থেকে বেশ কিছু পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

ওই অভিযানের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও পুলিশ ‘রিমোট ও কন্ট্রোলার’ উদ্ধারের কথা লিখেছে। 

মামলায় বলা হয়েছে, “দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আরিফের ভাড়া বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, বারুদ মিশ্রিত কটন বাড, বৈদ্যুতিক তার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ (ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা), বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং জিহাদ সংক্রান্ত কয়েকটি বই উদ্ধার করা হয়েছে।”

রাতভর ওই অভিযানের পরদিন বুধবার সকালে সাভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। 

মঙ্গলবার রাত থেকে নীল রঙের একটি ড্রামটি সেখানে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়েছিল। লোকজন ড্রামের ভেতর ইলেকট্রিক টেপ প্যাঁচানো ‘প্রেশার কুকার’ দেখতে পেয়ে সেটি বের করে মাঠে রাখে। পরে ড্রামটি কেউ নিয়ে যায়। 

সাভারে ওই দুটি বোমা উদ্ধার করে নিস্ক্রিয় করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোমা নিস্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা। 

সিটিটিসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলছেন, ওই দুটোই ছিল রিমোট নিয়ন্ত্রিত ‘প্রেশার কুকার’ বোমা। 

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে ফেলে যাওয়া প্রেশার কুকার বোমাটি ছিল একটা ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে। ওই ব্যাগের মধ্যে আমরা একটি রিমোট পেয়েছি। ওই ধরনের রিমোট মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক লকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ওই রিমোট দিয়ে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো যেত।”

সাভার থানাধীন লালটেক ঘোড়া মসজিদ মাঠে ফেলে যাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমাটিও রিমোট নিয়ন্ত্রিত বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলেছেন ওই কর্মকর্তা। তবে সেটির রিমোট পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “মসজিদের মাঠে ফেলে যাওয়া বোমাটির রিমোট যে ছিল সেটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি, কিন্তু সেটা আমরা পাইনি। কারণ ওরা রাত ১টার দিকে মসজিদের পেছনে প্রথমে ড্রামের মধ্যে প্রেশার কুকার বোমাসহ আরও কিছু জিনিসপত্র ফেলে রেখে যায়। তখন এলাকার লোকজন সন্দেহ করে ড্রামে উঁকি দিয়ে টেপ প্যাঁচানো প্রেশার কুকার দেখতে পেয়ে সেটি বের করে মাঠে রাখে। 

“বোমাটা রাতভর মাঠেই ছিল। আর আনুমানিক ভোর ৬টার দিকে কিছু লোকজন এসে নীল রঙের সেই ড্রামটা নিয়ে চলে যায়।” 

আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার চায়ের দোকানের সামনে থেকে উদ্ধার করা ‘প্রেশার কুকার’ বোমা।

আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার চায়ের দোকানের সামনে থেকে উদ্ধার করা ‘প্রেশার কুকার’ বোমা।

সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ধারণা করছি যখন সাভারের শ্যামপুরে আরিফের ভাড়া করা আস্তানায় অভিযান চলছিল তখন পুলিশের অভিযানের ভয়ে হয়তো ড্রামটা তারা মাঠে ফেলে রেখে যায়। পরে ভোর বেলা আবার তারা সেটা নিয়ে যায়, কিন্তু প্রেসার কুকার বোমাটা মাঠেই রয়ে যায়। 

“তারা হয়তো ভেবেছিল বোমাটাও ওই ড্রামের মধ্যেই আছে। আমরা ধারণা করছি, বোমার রিমোট ওই ড্রামের মধ্যেই রয়ে গেছে।”

এর আগে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরের আলীমুজ্জামান ব্রিজের দক্ষিণ অংশে একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা বোমা উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। 

ওই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার পর পুলিশ জানায়, সেটি ছিল একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা।

ওই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে ১১ জানুয়ারি ফরিদপুর গিয়েছিলেন পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল। 

ওই দলের পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটি ছিল রিমোট ডিভাইস দ্বারা পরিচালিত একটি শক্তিশালী বোমা।”

বুধবার সকালে বরিশাল আদালতের ফটকে একটি ‘দুর্বল’ বিস্ফোরণের কথা জানায় পুলিশ। সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ সেখানে বিস্ফোরণে ধুলোমাটি ও ধোঁয়া উড়তে থাকে। ওই বোমাটি কাউকে ছুঁড়তে দেখা যায়নি ভিডিওতে। সেটি দূর নিয়ন্ত্রিত কোনো বোমা কী না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বরিশাল নগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, “সেটি কোনো রিমোট কন্ট্রোলড বোমা নয়। আমরা সেখানে কোনো তার, ব্যাটারি বা আইইডি (ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বানাতে ব্যবহৃত হয় এমন উপকরণগুলোও পাইনি। মূলত একটি টিনের ঢাকনাওয়ালা কাঁচের আচারের বয়ামের মধ্যে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে ওই বোমা বা পটকাটি তৈরি করা হয়। 

“আমাদের ধারণা সেটি কেউ ছুঁড়ে মারতে পারে, যা সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে স্পষ্ট হয়নি। আমরা অন্যদিক থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছি।”

তবে সাভার ও আশুলিয়া থেকে পরপর উদ্ধার করা দুটো ‘প্রেশার কুকার’ বোমা এবং মতিঝিলে ছাতার ভেতর পাওয়া ‘পাইপ বোমার’ গঠন দেখে পুলিশের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। 

পুলিশের সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলছেন, এই বোমাগুলো বোমারু মামুনের ‘সিগনেচার কাজ’। 

এর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামুন তার জবানবন্দিতে ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’ বানানোর কথাও বলেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে কখনো ‘রিমোট কন্ট্রোলড’ বোমার ব্যবহার এর আগে দেখা যায়নি। তবে উগ্রবাদীরা বিভিন্ন সময়ে দুরনিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরির চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা যায়। 

পুরনো ধারার হরকতুল জিহাদ বা জেএমবির বোমার কারিগররা তাদের আইইডিতে 'টাইম ডিভাইস' ব্যবহার করত। যেগুলোতে এক ধরনের 'ডিলে সার্কিট' থাকত, সার্কিটের সুইচে চাপ দিয়ে রেখে দিলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেটা ডেটনেটরকে ইগনাইট করত এবং বোমাটি বিস্ফোরিত হত। সেগুলোতে ডেটোরেটরের পাওয়ার সোর্স হিসেবে থাকত ব্যাটারি। 

২০০১ সালে রমনার বটমূলের বোমা হামলা এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলায় এরকম 'টাইম ডিভাইস' ব্যবহার করা হয়েছিল।

রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা ব্যবহৃত না হলেও মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রিত বোমার বিস্ফোরণের খবর এর আগে দিয়েছিল পুলিশ। 

১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ১৭ জুলাই বোমা বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের একজন নারী সহকারী প্রোগ্রামার। ওই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনার শিকার আয়েশার একজন সহকর্মী তার ব্যাগে ওই 'সেলফোন বোমাটি' পেতে রেখেছিল। 

অপরপ্রান্ত থেকে সেই বাটন ফোনটিতে কল আসা মাত্রই সেটি বিস্ফোরিত হয়। সম্পর্ক গড়তে না পারার রাগ থেকে ঘটনাটি ঘটানো হয় বলে তখন পুলিশ জানিয়েছিল।

মামুনের পূর্বাপর

পুলিশ বলছে, হোটেল ওলিও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মামুন। যদিও চলতি বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার একটি আদালত মামুনসহ মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দিয়েছে। 

রায়ের পর্যালোচনায় বিচারক লিখেছেন, “আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা-কর্মী।”

তবে ওলিও মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে মামুন বলেছেন, নৌবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া মাহফুজ নামে একজনের কাছ থেকে বোমা তৈরির খুঁটিনাটি শিখেছিলেন তিনি। নব্য জেএমবির গোপন গ্রুপে মাহফুজ ‘সবুজ পাখি’ নামে পরিচিত ছিলেন। 

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের মার্চে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে পুলিশের অভিযানে মাহফুজ নিহত হন।

সেই সময় থেকে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসপন্থি ‘নব্য জেএমবি’র প্রধান বোমা কারিগর ছিলেন মাহফুজ ওরফে সবুজ পাখি, ভাসানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইব্রাহিম ওরফে খাব্বাব আল মিশরী এবং নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুন।

সংবাদমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, খাব্বাব আল মিশরী ছিলেন একজন মিশরীয় নাগরিক। তাকে বলা হতো আল কায়েদার প্রধান বোমা প্রস্তুকারী রসায়নবিদ। তিনি ২০০৮ সালে পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। 

বোমার রাসায়নিক মিশ্রণগুলো খুব ভালো বুঝতেন বলে ইব্রাহিমকে ‘খাব্বাব আর মিশরী’ নাম দেওয়া হয়। আর আরেক বোমা কারিগর মাহফুজ খুব ভালো বুঝতেন বোমার সার্কিট। এই দুজন নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবি মামুনকে নিরাপদে রাখতে নানা কৌশল প্রয়োগ করেছিল। 

নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’, যাকে ‘নাটের গুরু’ বলছে পুলিশ

নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’, যাকে ‘নাটের গুরু’ বলছে পুলিশ

মামুনকে ধরতে ২০১৭ সালে নানা জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। ঝিনাইদহের মহেশপুরে মামুনকে ধরতে অভিযানে গিযে জঙ্গি হামলায় আহত হন বেশি কয়েকজন কর্মকর্তা।

হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণের মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতেও মামুন ‘প্রেশার কুকার’ বোমার পাশাপাশি গ্রেনেড ও ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’ তৈরির কথাও বলেছিলেন। তারা ২০১৭ সালেই ধামরাইতে রথযাত্রায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। রেকিও করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়ন করেননি।

জবানবন্দিতে মামুন বলেছিলেন, ২০১৭ সালের ১৫ অগাস্ট হোটেল ওলিওতে তার তৈরি দুটো ‘প্রেশার কুকার’ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। দুটো বোমার আনুমানিক ওজন ছিল ৩০ কেজি। ভালুকার একটি বাড়িতে বসে বোমা দুটি তৈরি করে চালের বস্তায় ঢুকিয়ে বাসের বক্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসেন তারা। মহাখালী ফুটব্রিজের নিচে সাইফুলের কাছে বোমা দুটো হস্তান্তর করেন তিনি। ওলিওতে বিস্ফোরণে সেই সাইফুল নিহত হয়েছিলেন।

এখন পুলিশ বলছে, গেল জুলাইতে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘উল্টো রথযাত্রা’র পথে যে ‘পাইপ বোমা’টি রাখা হয়েছিল সেটিও মামুনের তৈরি। বোমাটি একটি ছাতার মধ্যে এমনভাবে লাগানো ছিল যে কেউ কৌতুহলবশত ছাতার বোতাম টিপলে সেটি বিস্ফোরিত হতো। ওই বোমার রিমোট পাওয়া যায়নি।

বুধবার সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যার নাম আসবে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব আমরা।”

মামুনের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা এখনো চেষ্টা চালাচ্ছি, এ বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।”

পুরনো খবর

আল কায়েদা বাংলাদেশে ‘নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

সাভারে বিস্ফোরক উদ্ধার: নব্য জেএমবি সদস্য আরিফ ৬ দিনের রিমান্ড

৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া ‘নব্য জেএমবির বোমারু মামুনকে’ নাটের গুরু বলছে পুলিশ

এবার সাভারের বনগাঁওয়ে প্রেসার কুকারে বোমাসদৃশ বস্তু, আতঙ্ক

সাভারে বোমা উদ্ধার: মতিঝিলের ‘পাইপ বোমার’ সঙ্গে যোগসূত্র দেখছে পুলিশ

সাভারে ৫ হাতবোমা উদ্ধার, আরও বোমার সন্দেহে ঘেরাও এলাকা

আশুলিয়ায় চায়ের দোকানে 'প্রেশার কুকার' বোমা

রথযাত্রার পথে পাইপ বোমা ‘কাকতালীয়’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শক্তিশালী ‘পাইপ বোমার’ পাশ দিয়ে গেছে রথযাত্রা, ঘিরে রেখে পুলিশ বলেছিল শর্ট সার্কিট

মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার মধ্যে ছিল 'পাইপ বোমা', বলছে পুলিশ

জঙ্গি না থাকলে তো রেড অ্যালার্ট থাকত না: উপদেষ্টা জাহেদ

দেশে ‘জঙ্গি আছে’ মানছেন উপদেষ্টা জাহেদ, অস্বীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর