১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাভারে বোমা উদ্ধার: মতিঝিলের ‘পাইপ বোমার’ সঙ্গে যোগসূত্র দেখছে পুলিশ

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য। এখন তার ‘গুরুকে’ খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সাভারে বোমা উদ্ধার: মতিঝিলের ‘পাইপ বোমার’ সঙ্গে যোগসূত্র দেখছে পুলিশ
সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ।

গোলাম মর্তুজা অন্তু গোলাম মর্তুজা অন্তু

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 08:41 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে কিছু হাতবোমা ও বোমা তৈরির উপকরণসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযান শুরুর পর বাসাটি ঘিরে রাখা হয়, পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে আরও অভিযান চালানোর কথা পুলিশের তরফে জানানো হয়। সেই অভিযান শেষ হয় রাত পৌনে ২টায়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য।

সাভারের অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সেখানেও পাইপ বোমা পাওয়া গেছে। এ পাইপ বোমার সঙ্গে কিছুদিন আগে মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া পাইপ বোমার মিল রয়েছে।

সেকারণে দুই ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। সাভার থানা পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন।

এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ডিএমপির এক বার্তায় বলা হয়, ঢাকার মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে পুলিশ।

বাসাটির মালিক আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি। তিনি পক্ষঘাতগ্রস্থ ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাসাটির দেখাশোনা করেন।

তার বড় মেয়ে বলছেন, গত ৫ অগাস্ট আব্বাস আলী নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসে চার হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ঘর নেন।

বাসায় ওঠার সময় বলেছিলেন তিনি একজন প্রাইভেট কার চালক। পাশেই শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুল হওয়ায় সেখানে বাচ্চাদের ভর্তি করাবেন, সেজন্য বাসাটি পছন্দ তার। ১০০০ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। একটি ফ্যান লাগিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর দিনের বেলায় দেখা যায়নি।

ওই ঘর থেকে যেসব জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে, সেগুলো তিনি রাতের বেলায় কোনো এক ফাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় নিচতলা থেকে জিনিসপত্র জোরে জোরে রাখার শব্দ পাওয়া যেত বলে বাড়িওয়ালার মেয়ের ভাষ্য।

এর আগে রাতের অভিযান নিয়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে হেমায়েতপুরের শ্যামপুর থেকে হাতবোমাগুলো উদ্ধার করা হয়।

“একই এলাকার শ্যামপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আরও হাতবোমা সংরক্ষিত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

ওসি বলেন, স্থানটি নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছায়।

বোমা উদ্ধারসহ অভিযান চালাতে সেখানে যান সিটিটিসির সোয়াট ও বম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, “গত ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের মাদ্রসায় আমরা বোমা তৈরির অন্যতম উপকরণ টিএটিপি (ট্রাই এসিটোন ট্রাই পারঅক্সাইড) পেয়েছিলাম। সাভারেও টিএটিপি পাওয়া গেছে। ধরন দেখে মনে হচ্ছে এরা লিংকড।

“এছাড়া কেরানীগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনার পরে চেকপোস্টে পুলিশকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আরিফ নামে একজন উগ্রবাদীর যোগসাজশের তথ্য তখনই পাওয়া গিয়েছিল। আমরা এখনো সেসব তথ্য যাচাই করতে পারিনি।”

আশুলিয়ায় যে প্রেশার কুকার বোমাটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটি হেমায়েতপুরের এই বাসায় তৈরি বলে ধারনার কথা জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, “আশুলিয়ার বোমার সূত্র ধরেই আরিফকে শনাক্ত করা হয়। বিস্ফোরণের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, আশুলিয়ার বোমাটি হেমায়েতপুরের এ বাসাতেই তৈরি হয়েছিল।”

গ্রেপ্তার আরিফকে নিয়ে আরো অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আরিফ তার একজন গুরুর কথা বলেছেন, যিনি পেশায় হোমিও চিকিৎসক। আমরা সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের স্যার কাল বিস্তারিত বলবেন।”

গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তিনি নব্য জেএমবির সদস্য সন্দেহে এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন তার সহযোগী হিসেবে মোহাম্মদ আরিফ নামে একজনের যোগসাজশের আভাস দিয়েছিল পুলিশ।

এরপর ফেব্রুয়ারিতে যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশীর সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে সায়দাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানায় পুলিশ।

তবে উগ্রবাদী অভিযান নিয়ে কিছুটা ‘রক্ষণশীল’ পুলিশ তখন আরিফের বিষয়ে বিস্তারিত বলেনি।