Published : 25 May 2026, 04:30 PM
পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে লঞ্চে যাত্রী সংখ্যা কমলেও ঈদে ঘরমুখো অনেক যাত্রী এখনো রাতের লঞ্চযাত্রাকেই বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করছেন।
ফলে সকালে সদরঘাটে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের পর থেকে মানুষের আনাগোণা বাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর কমলাপুর থেকে পরিবারসহ চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দুপুরে সদরঘাটে আসেন মো. বশীর মিয়া। তিনি বলেন, স্ত্রী-সন্তান ও মোটরসাইকেল সঙ্গে থাকায় দিনের বেলাতেই যাত্রা করছেন। তবে একা ভ্রমণ করলে সাধারণত রাতের লঞ্চে যাত্রা করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তিনি বলেন, “স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি, তাই দিনের বেলাতেই রওনা দিয়েছি। রাতের চেয়ে দিনের ভ্রমণ নিরাপদ হলেও রাতের লঞ্চযাত্রা বেশি স্বস্তিদায়ক। একা ভ্রমণ করলে সাধারণত রাতে রওনা দিয়ে সকালে গন্তব্যে পৌঁছাই।”
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার একটি মেসে থেকে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাকলী আক্তারও সকালে সদরঘাটে আসেন কালীগঞ্জে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধারণত একাই ঢাকা-কালীগঞ্জ যাতায়াত করি। পরিবারের ইচ্ছা থাকে দিনের আলোতেই যেন বাড়ি পৌঁছাতে পারি। তাই প্রতিবার সকালের দিকেই রওনা দিই। এ সময় লঞ্চ তুলনামূলক ফাঁকা থাকে এবং যাত্রীর চাপও কম থাকে।”
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোতে কিছুটা যাত্রীচাপ থাকলেও বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা ও বরগুনাগামী লঞ্চগুলো তুলনামূলক ফাঁকা। টিকেট বেচাবিক্রিতেও নেই হুড়োহুড়ি।
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের সময় বেশ অনেকটা কমে যাওয়ায় বহু যাত্রী সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। আগে যে দূরত্ব পাড়ি দিতে লঞ্চে পুরো রাত লেগে যেত, এখন বাসে তা ৫-৬ ঘণ্টারও কম সময়ে অতিক্রম করা সম্ভব।
লঞ্চকর্মীরা বলেন, বরিশাল, ভাণ্ডারিয়া ও ঝালকাঠিগামী রুটে যাত্রীসংখ্যা কমেছে। তবে চাঁদপুর, ভোলার চরফ্যাশন, কালীগঞ্জ ও বরগুনা রুটে যাত্রী কমার প্রভাব তুলনামূলক কম।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মা সেতু চালুর আগে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ নৌপথ ব্যবহার করতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
আগে ঢাকা থেকে ৪৩টি নৌপথে প্রায় ২২৫টি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে রুট কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫টি এবং লঞ্চের সংখ্যা কমে ঠেকেছে ১৯০টিতে। তবে ঈদ উপলক্ষে এবার ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চাঁদপুরগামী লঞ্চ ‘ইমাম হাসান’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই ঘাটে যাত্রীসংখ্যা কমেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। তবে বিকেলের পর থেকে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে এবং মঙ্গলবার সারাদিন ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকবে বলে তারা আশা করছেন তারা।
১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত
নদীপথে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সদরঘাট টার্মিনালে মোট ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, ঈদের সময় সেখানে অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে। যাত্রী আকৃষ্ট করতে অনেক লঞ্চে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়ায় কেবিন দেওয়া হচ্ছে।
অন্য সময়ে একটি সিঙ্গেল কেবিনের সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৭১৬ টাকা হলেও ঈদের এই সময়ে তা ১ হাজার ২০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে কুলি সেবা চালু, ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং যাত্রী পূর্ণ হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চ ছাড়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের এক কর্মকর্তা বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো টার্মিনাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঘাটের বিভিন্ন স্থানে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি, যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।”
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, “সকাল থেকে যাত্রীসংখ্যা কম থাকলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। রাতে চাপ আরও বাড়তে পারে। আগামীকাল রাত পর্যন্ত যাত্রীর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারেন, সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছি।”