রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে ঢাকায় ফুলের এই বড় মার্কেটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
Published : 05 Apr 2025, 11:15 PM
ঢাকার শাহবাগে ফুলের বাজারে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
শনিবার রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে সেখানে আগুনের খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ফায়ার সর্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।
তিনি বলেন, “শাহবাগ টিনশেড ফুলের মার্কেটে আগুনের খবর পেয়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে।”
আগুনে পাঁচজন দগ্ধ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক ডা. আশিক।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বলেন, "মার্কেটের একটি দোকানে কয়েকটি গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। কিন্তু সেখান থেকেই আগুন লাগে কিনা, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, "সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটা ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। কিন্তু পানি সমস্যার কারণে আমরা আরও তিনটা ইউনিট হেডকোয়ার্টার থেকে নিয়ে আসি।"
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, "ক্ষতির বিষয়টা এখন বলা যাবে না। যাদের দোকান, তাদেরকে আমরা এখনও পাই নাই। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বলতে পারব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
"আগুনে ক্ষয়ক্ষতি অবশ্যই হইছে, এটা পরে বলা যাবে। আহত বা নিহতের কোনো সংবাদও এখনও পাওয়া যায়নি।"
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, "এখানে যেসব বৈদ্যুতিক তার ছিল, সেগুলো খুব লুজ কানেকশান ছিল; ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আমরা ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এ আগুন লেগে থাকতে পারে।
"অথবা এখানে বিপজ্জনক অবস্থায় বেলুন ফোলানোর যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, হিলিয়াম অথবা হাইড্রোজেন, সেসব গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল। সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল এবং আগুন জ্বলছিল।"
তিনি আরও বলেন, "হাইড্রোজেন গ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে বেলুন ফোলানোর জন্য হিলিয়ামের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্যাসটা যেহেতু কম দাম, সেটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যাবে গ্যাসটা কী ছিল।"
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আশিক বলেন, “আহতদের মধ্যে রিয়াজুলের ১০ শতাংশ, শাওনের ১৬ শতাংশ ও ফয়েজের শরীরের ১৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কালু ও শামীম সামান্য দগ্ধ হয়েছেন; তাদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।"
দগ্ধদের বরাতে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এক সদস্য বলেন, “রাতে শাহবাগের ফুলের মার্কেটে একটি টিনসেড ঘরে পাঁচজন বেলুনে গ্যাস ভরার কাজ করছিলেন। সেখানে লাগা আগুনে তারা দগ্ধ হন। পরে তারা নিজেরাই রিকশা নিয়ে হাসপাতালে আসেন।"