১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রকে ‘ধর্ষণের’ মামলায় শিক্ষকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মামলা তুলে নিতে হুমকি পাওয়ার কথা বলেছেন শিশুটির বাবা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 09:36 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

সাভারে মাদ্রাসার ছাত্রকে ধর্ষণের মামলায় এক শিক্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম সংবাদমাধ্যমে বলেছেন।

এদিন পাঁচ আসামিকে আদালতে তোলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই সামরুল হোসেন। 

এর মধ্যে জাবের হোসেন ও দুই শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং কামরুল ইসলাম ও আরেক শিশুকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্নার আদালতে জাবের ও দুই শিশুকে নেওয়া হয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য। জাবের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে ওই দুই শিশু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। পরে আরেক শিশুর সঙ্গে তাদের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। 

বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে এই পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি পাওয়ার কথা বলেছেন অভিযোগ তোলা শিশুর বাবা। 

তিনি বলেন, "আমাকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। না হলে আমাকে গুম করা হবে।" 

৭ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সাভারের মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসার পরিচালক জিয়া ইবনে কাসেমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গেল ২৩ অগাস্ট ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তার বাবা। 

ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি সাভার মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ২৭ অগাস্ট সাভার মডেল থানা থেকে মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমদ তা গ্রহণ করে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

মামলায় বলা হয়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থী ওই শিশুকে ধর্ষণ করে। কান্নাকাটি করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ধর্ষণের ঘটনা শুনে আরেক শিক্ষার্থী প্রথম ঘটনার পাঁচ দিন পর তাকে ধর্ষণ করে। এভাবেই ৬ জুলাই পর্যন্ত ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ জানাতে আবার নির্যাতনের শিকার হয় শিশুটি।

এজাহারে বলা হয়, এদিকে মাদ্রাসায় শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন অভিযোগ ওঠা এক শিক্ষার্থীকে বড় হুজুর মারধরও করেন বলে এজাহারে বলা হয়। পরে শিশুটি ১২ অগাস্ট তার মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটির পিতা ১৫ অগাস্ট রাতে মাদ্রাসার পরিচালক জিয়া ইবনে কাসেমের কাছে অভিযোগ করেন। তখন জিয়া ইবনে কাসেম তাকে বলেছিলেন, ৯৯৯ এ ফোন করে অপরাধীদের পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানাতে মানা করেন তিনি।

“পরে বাদী জানতে পারেন, জিয়া ইবনে কাসেমও শিশুদের বলাৎকার করেন। থানা পুলিশ জানতে পারলে আটক হবেন, এজন্য কৌশলে মাদ্রাসায় যেন পুলিশ আসতে না পারে সেজন্য বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।”

মামলায় আসামিদের ‘সংঘবদ্ধ চক্র’ হিসেবে তুলে ধরে মাদ্রাসার আরও অনেক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করায় তারা জড়িত বলে অভিযোগে করেছেন বাদী।