গ্রামীণফোনের বর্তমান সিমেই থ্রি জি

অক্টোবরের শুরুতেই থ্রি জি সেবা পেতে যাচ্ছেন গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা এবং এজন্য সিম পরিবর্তন করতে হবে না।

শামীম আহমেদ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2013, 12:31 PM
Updated : 9 Sept 2013, 12:31 PM

থ্রি জির নিলামে অংশ নিয়ে তরঙ্গ বরাদ্দ নেয়ারএকদিন বাদে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোনঅপারেটিং কোম্পানির কর্মকর্তারা।

রোববার নিলামে অংশ নিয়ে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তির (থ্রিজি) নিলামে১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনেগ্রামীণফোন।

সংবাদ সম্মেলন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সুদ বলেন,অক্টোবরের শুরুতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় থ্রিজি সেবা চালু করার পর  নভম্বেরে ঢাকা জেলার অন্যান্য অংশ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে তাসম্প্রসারিত হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে সাত বিভাগীয় শহরেই গ্রামীণফোনের থ্রিজি সেবা চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন গ্রামীণফোনেরনির্বাহী প্রধান। তিনি আশাবাদী, ২০১৪ সালের মার্চের মধ্যে সব জেলার গ্রাহকরা থ্রি জিসেবা পাবে।

গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার তানভিরমোহাম্মদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান গ্রাহকরা সিমপরিবর্তন না করেই থ্রি জি সুবিধা নিতে পারবেন।

গ্রামীণফোনের বর্তমান গ্রাহকরা থ্রি জিপ্যাকেজ নিলেই থ্রি জি গ্রাহকে পরিণত হবেন। ফলে থ্রি জি সেবা পেতে গ্রাহকদের নতুনকরে সিম কেনা বা পরিবর্তনের প্রয়োজনও হবে না।

গত বছরের অক্টোবরে রাষ্টায়ত্ত অপারেটর টেলিটকথ্রি জি সেবা চালুর পরপরই এর গ্রাহকদের সিম বন্ধ হয়ে যায়, এতে ভোগান্তিতে পড়েঢাকাসহ আশেপাশের টেলিটক গ্রাহকরা।

অবশ্য পরে অকার্যকর ওই সিম গ্রাহকসেবা কেন্দ্রথেকে বিনা খরচে বদলে নেয়ার সুযোগ পায় টে্লিটক গ্রাহকরা।

গ্রামীণফোন অনেক আগে থেকেই থ্রি জি সেবা চালুরকাজ করে আসছে বলে গ্রাহকরা থ্রি জি সেবায় যেতে চাইলে কোনো প্রকারের অসুবিধায় পড়বেননা, বলেন তানভির।

নিলামে বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গের টাকা আগামী ৩০ দিনেরমধ্যে জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। গ্রামীণফোন খুব দ্রুত টাকা জমা দিয়ে কিছু যন্ত্রপাতিআমদানির কিছুদিনের মধ্যেই থ্রি জি সেবা চালু করতে চায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানোহয়।

সংবাদ সম্মেলনের পরপরইতরঙ্গ মূল্যের ৬০শতাংশ অর্থ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে জমা দেয় গ্রামীণফোন।

বিটিআরসিভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই তথ্যজানান।

নিলামচলাকালীন সময়ে ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী গ্রামীণফোনকে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। এর ৬০ শতাংশ টাকা জমা দিল তারা।

থ্রিজি নীতিমালা অনুযায়ী নিলামে জয়ী মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রথম কিস্তিতে মোট টাকার৬০ শতাংশ জমা দিতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। বাকি টাকা ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধকরতে হবে।

টাকাজমা দেয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেয়া হবে বলে রোববার নিলাম অনুষ্ঠানেজানিয়েছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস। 

সংবাদ সম্মেলনে বিবেক সুদ বলেন “গ্রামীণফোনেথ্রি জির মাধ্যমে হাই স্পিড ইন্টারনেট, লাইভ টিভি, লাইফস্টাইল অ্যাপলিকেশন, ভিডিওকল, মুভি স্ট্রিম, অন লাইন লাইভ গেমসহ নানা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা।”

এই সেবা প্যাকেজ কী ধরনের হবে বা কী পরিমাণ দামরাখা হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এথনো তা ঠিক করা হয়নি, তবে প্রতিযোগিতামূলক দামরাখা হবে।”

বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তাদেরসাধ্যের মধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিবেক জানান।

থ্রি জি সেবা চালুর পর গ্রাহক সংখ্যা বাড়বেবলেও আশাবাদী তিনি। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গ্রামীণফোনেরগ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪৬ লাখ।

গ্রামীণফোনের পাশাপাশি দেশের অন্য তিন মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল রোববার নিলামে অংশ নিয়ে পাঁচ মেগাহার্টজ করে থ্রি জি তরঙ্গ কিনেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক