৯০ লঞ্চ পদ্মা পাড়ে, ঢাকার সদরঘাট শূন্য

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলের ৪৩ রুটের ৯০টি লঞ্চ নিয়ে নেতা-কর্মীরা যাওয়ায় ঢাকার সদরঘাট শনিবার লঞ্চশূন্য হয়ে পড়েছিল।  

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 June 2022, 03:23 PM
Updated : 25 June 2022, 03:23 PM

বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধন করার পর অন্য প্রান্তে জনসভায় যোগ দেন।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার এই জনসভায় যোগ দিতে ঢাকার সদরঘাট থেকে ৩টি এবং বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠিসহ অন্যান্য রুট থেকে ৮৭টি লঞ্চ নিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা্। তাতে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন নৌপথে যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সদরঘাটে আসে ২৯টি লঞ্চ আর ছেড়ে যায় ২৮টি। যদিও এ সময়ের মধ্যে ৫২ থেকে ৫৫টা লঞ্চের আসা এবং ৩৫ থেকে ৪০টি লঞ্চের যাওয়ার কথা।

সদরঘাটে লঞ্চ আসা ও ছাড়ার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর থেকে এসেছে ৭টি লঞ্চ, চাঁদপুর থেকে এসেছে ১০টি লঞ্চ। পটুয়াখালী থেকে এসেছে ২টি লঞ্চ, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে আসতো ৪টি লঞ্চ।

পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে এসেছে ১টি লঞ্চ। আর বরিশাল থেকে আঁচল-৬ (মীরগঞ্জ থেকে) ও কুয়াকাটা-১ লঞ্চ এসেছে, যেখানে অন্য সময়ে আসতো ৫টি লঞ্চ।

মুলাদী, টরকী, ভোলা থেকে একটি করে লঞ্চ এসেছে। ভোলার ইলিশা থেকে এসেছে দুইটি, অন্য সময় আসত পাঁচটি লঞ্চ। ভোলার বেতুয়া থেকে তিনটির পরিবর্তে ১টি লঞ্চ আসে।

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক মাহতাব উদ্দিন বলেন, “হাতিয়া থেকে দুটি আসার কথা থাকলেও শনিবার আসেনি একটিও। এছাড়া কালাইয়া, লালমোহন, বোরহানউদ্দিন, ভান্ডারিয়া, ঝালকাঠি, খেপুপাড়া, পয়সার হাট, আমতলী, বরগুনা থেকেও কোন লঞ্চ আসেনি।”

শনিবার এসব রুটে যাওয়ার লঞ্চ নেই জানালেও যাত্রীও তেমন ছিল না বলে জানান তিনি।

লঞ্চ না থাকায় শনিবার প্রায় শূন্য ছিল ঢাকার সদরঘাট

“এক রুটের লঞ্চ না থাকলেও কাছাকাছি অন্য রুটের লঞ্চ আছে। তাছাড়া যাত্রীর চাপ তেমন নেই।”

তবে সচরাচর শনিবার যাত্রীর যেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেত, এদিন বিকালে পন্টুনে গিয়ে তেমনই দেখা গেছে।

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সদরঘাট যাওয়া-আসা করে এরকম ৯০টি বড় লঞ্চ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পদ্মা সেতুর দক্ষিণভাগে এসেছে। এছাড়া আরও ১১০টি ছোট লঞ্চও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মানুষ ভাড়া করে নিয়ে এসেছে।”

এমভি টিপু গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেতুয়ায় লঞ্চ দেওয়া গেছে, কিন্তু হাতিয়ায় আজ (শনিবার) দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ সব লঞ্চ এখন পদ্মার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেছে।”

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ১২টি লঞ্চ। এছাড়া ভোলার ইলিশায় ৪টি, শরীয়তপুরের হাটুরিয়ায় ২টি, বরিশালে একটি এবং নড়িয়ায় ২টি লঞ্চ ছেড়ে যায়।

আর ভোলা, চরফ্যাশন, বাগেরহাটের রায়েন্দা যাওয়ার জন্য লঞ্চ অপেক্ষা করছিল।

আর বরিশালে সরাসরি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল রাজারহাট-সি ও কুয়াকাটা -১।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক