ওমিক্রন: দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ ‘স্থগিত হচ্ছে’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মত বাংলাদেশও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2021, 07:16 AM
Updated : 27 Nov 2021, 09:40 AM

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এরইমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

“সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আমরা অবহিত হয়েছি। এই ভ্যারিয়েন্ট খুবই অ্যাগ্রেসিভ। এ কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ এখনই স্থগিত করা হচ্ছে।”

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের সকল বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরে ‘স্ক্রিনিং’ আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “সারাদেশে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে আরও কঠোর হওয়ার জন্য জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য দেশ থেকে আসা নাগরিকদের বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তাদের টিকা নেওয়া এবং তাদের আরটিপিসিআর টেস্ট করা আছে কিনা দেখা হবে।”

গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’।

এরই মধ্যে বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং এবং ইসরায়েলেও শনাক্ত হয়েছে এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট।

বলা হচ্ছে, চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়ার পর নতুন এই করোনাভাইরাসের যতগুলো ধরন এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে ওমিক্রনেই জিন বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে সবচেয়ে বেশি।

এর মানে হল, করোনাভাইরাসের যেসব টিকা এ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো ওমিক্রনের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। আবার জিন বিন্যাসে পরিবর্তনের কারণে এ ভাইরাস অনেক বেশি দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে তালিকাভুক্ত করেছে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বা ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে।

তবে তারা এটাও বলছে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ কতোটা প্রভাব ফেলতে পারে সেটা বুঝতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছে; ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫১ লাখ হাজার ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২৬ কোটির বেশি রোগী।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক