Published : 27 Aug 2019, 10:07 PM
মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
পেশায় চার্টার্ড একাউন্টটেন্ট মুস্তফা কামাল ১৯৯৬ সালে প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
সভায় বক্তব্যে মুস্তফা কামাল বলেন, জাতির জনকের সঙ্গে চার বার সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল তার।
তিনি বলেন, “আমার জীবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চারবার সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আমি একদিন বঙ্গবন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আরেকজন সরকারি কর্মকর্তা একটি ফাইল নিয়ে আমার আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বঙ্গবন্ধু এসেই ওই লোকটিকে বললেন, ‘আপনি কী নিয়ে আসছেন?’ ওই কর্মকর্তা বললেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের একটি ফাইল নিয়ে এসেছি’।”
‘ফুড প্রকিউরমেন্ট রেশনিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের ফাইল ছিল সেটি, যাতে অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংক তাদের একজন পরামর্শক নিয়োগ চাইছিল।
মুস্তফা কামাল বলেন, “তখন বঙ্গবন্ধু জানতে চাইলেন, বিশ্ব ব্যাংক কার নাম বলেছে? ওই কর্মকর্তা জানালেন, এগ্রো প্রোগ্রেস জেএমবিএইচ নামের এক জার্মান কোম্পানির নাম বলা হয়েছে।
“বঙ্গবন্ধু সাথে সাথে বলে দিলেন, ‘না, বিশ্ব ব্যাংক একটি কনসালটেন্টের নাম দেবে, এটা তো মানতে পারি না, এটি আমাদের প্রকল্প। তারা একটি কনসালটেন্ট দিলে আমরা আরেকটি কনসালটেন্ট দেব। কাজটি তো আমাদের করতে হবে। সেজন্য আমরাও আমাদের একটি দেশি কনসালটেন্টকে দেব’।
মুস্তফা কামাল বলেন, “বঙ্গবন্ধু কিন্তু আমাকে কাজ দেওয়ার জন্য বলেন নাই। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওই উপ সচিব ভাবলেন, বঙ্গবন্ধু হয়ত পরোক্ষভাবে আমার নাম বলেছেন। তিনি এসে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। শেষ পর্যন্ত আমি কাজটি পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে এই পুরস্কার আমি সারা জীবন মনে রাখব। এটাকে আমি উপহারস্বরূপ নিয়েছি।”
আরেকটি ফাইল অডিটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তখন পর্যটন কর্পোরেশন বাণিজ্যমন্ত্রীর অধীনে ছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মোশতাক। কক্সবাজারের হোটেল শৈবাল, উপল ও প্রবাল হোটেল তৈরি হচ্ছিল। প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটির অডিট করানো হচ্ছিল। আমি সেই প্রকল্পটির অডিট করছিলাম।
“অডিটের সময় এক পর্যায়ে আমি বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষর দেখে থেমে যাই। ওই জায়গায় খন্দকার মোশতাক লিখেছিলেন- ‘বঙ্গবন্ধুকে অবগত করানো যেতে পারে’। পরের লাইনে আবার বঙ্গবন্ধুর লেখা- ‘অবগত কেন? অনুমোদনেরও প্রয়োজন। তবুও অনুমোদন দিলাম’।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু দেশের কথা ভেবে অতিরিক্ত সুদে বিদেশি ঋণ গ্রহণ করতেন না। এখনও একই প্রাসঙ্গিকতা বিরাজ করছে। ”
বঙ্গবন্ধুর সেই দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করে দেশের কথা বিবেচনা করে ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সর্বোচ্চ দরকষাকষির মাধ্যমে ঋণ নিলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হবে, বলেন তিনি।