সোনা পাচার: তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ছাড়াই হচ্ছে মামলার রায়
চৌদ্দ বছর আগের সোনা পাচারের একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়াই রায় দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ এ সময়ে মামলার বিচারকালে বার বার সমন দিয়েও হাজির করানো যায়নি তদন্ত কর্মকর্তাকে।
এ অবস্থায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এসএম জিয়াউর রহমান গত ১২ জুন মামলাটিতে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্ত করেছেন দুজন পুলিশ কর্মকর্তা। এরা হলেন শফিকুল ইসলাম এবং সিআইডি পুলিশের তৎকালীন সহকারী সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান।
শেষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মুন্সি আতিকুর রহমানই ২০০৩ সালের ৩ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সে হিসেবে তিনিই মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা।
তার সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া মামলাটিতে রায় ঘোষণা হলে বড় ধরণের ত্রুটি থেকে যাবে এবং আসামিরা এ কারণে খালাসও পেতে পারেন বলে মামলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ অক্টোবর নাখালপাড়ার লুকাস মোড়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে সমীর মজুমদার এবং ইসহাক ওরফে ইসমাইল নামে দুই ব্যক্তির কোমরে বাঁধা ১২০টি করে ২৪০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় আর্মড পুলিশের এসআই নান্নান মিয়া রাজধানার তেজগাঁও থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারায় এ মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে আসামি সমীর সোনা পাচারের কথা স্বীকার করে ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর আদালতে জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে আরও সাতজনের নাম উঠে আসে।
তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ৩ জুন মুন্সি আতিকুর রহমান আদালতে যে অভিযোগপত্র দেন তাতে দুজনকে আসামি এবং ছয়জনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
তবে আদালত একজনকে অব্যাহতি দিয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
আসামিরা হলেন- সমীর মজুমদার, ইসহাক ওরফে ইসমাইল, জহিরুল হক, মো. সেলিম, আব্দুল ওহাব তালুকদার, আলহাজ্জ হুমায়ুন কবির ও আব্দুল মালেক।
এদের মধ্যে ইসহাক কারাগারে আছেন। বাকিরা জামিনে ছাড়া পেলেও তার মধ্যে আবার সমীর ও জহিরুল পলাতক।
মামলায় মোট সাক্ষী ১৩ জন। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ২০০৭ সালের ৫ জুন পর্যন্ত ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
তবে মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সি আতিকুর রহমানকে সাক্ষ্যের জন্য আদালতে হাজিরা করা সম্ভব হয়নি। অথচ তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হিসেবে প্রত্যেক ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান রচি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুন্সি আতিককে আমরা আদালতে আনতে পারিনি।”
তবে মুন্সি আতিক তার নামে কোনো সমন জারির বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, “মাঝে কিছুদিন আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তাই এই ধরনের কোনো মামলায় সমন এসেছে কি না তা আমার জানা নাই। এখন আমি সুস্থ, তাই সমন পেলে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে পারব।”
সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না করেই রায় দেওয়া হলে বড় ধরনের ত্রুটি থেকে যাবে, এমনকি আসামিরা খালাসও পেয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন মামলার সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এহসানুল হক সমাজী এ প্রসঙ্গে বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য না নিয়ে রায় ঘোষণায় আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য না দিলে রাষ্ট্রপক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয়। আসামিপক্ষ সেক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী সুবিধা চাইতে পারে।”
