Published : 05 Aug 2025, 10:29 PM
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবি তুলে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
মঙ্গলবার অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। লাখো শহীদের রক্ত, মা-বোনদের সম্ভ্রম আর কোটি কোটি মানুষের মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, একটি পতাকা নয়, একটি জাতীয় সংগীত নয়, বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বপ্ন, চেতনা, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার নিরন্তর সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
“কিন্তু আমরা নিদারুণ বেদনা, ক্ষোভ আর হতাশার সঙ্গে লক্ষ করছি, আজ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর কথিত নানা ঘোষণাপত্র এবং বয়ানের মধ্যে জাতির সামনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ অর্জনকে হেয় করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃতির মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে প্রত্যাখ্যানের চেষ্টায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্ম এবং ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিরা সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে ‘মঞ্চ ৭১’ এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হল-
>> জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা থাকবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিপক্ষে অসম্মানজনক কিছু থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে।
>> মুক্তিযুদ্ধের অর্জন, ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে তথাকথিত নতুন সংবিধান প্রণয়ন করার অপপ্রয়াস বাঙালি জাতি কোনো দিন মেনে নেবে না।
>> কোনো রাজনৈতিক দলের অপরাধ ও ব্যর্থতার দায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা যাবে না।
>> মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা, ইতিহাস মুছে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানো, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার সঙ্গে সংযুক্ত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার এবং বিচার করতে হবে।
>> অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তাদের বলতে হবে, তারা কী মনে করে, কী করবে আর কী করবে না।
“এ আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, দেশের পক্ষে, রক্তস্নাত ইতিহাসের পক্ষে,” বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইদানিং আমরা দেখতে পাচ্ছি কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা করে। কোথায় মুক্তিযুদ্ধ আর কোথায় ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান? কোন আন্দোলন করতে গিয়ে পেয়ে গেছেন রাষ্ট্র ক্ষমতা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশ সৃষ্টির, আর কোথায় ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান…।
“বলতে গেলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ বেহাত হয়ে যাচ্ছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধারা বেঁচে থাকতে এটা হতে দিতে পারি না। আমরা কোনো দলের পারপাস সার্ভ করার জন্য প্লাটফর্মটি করি না, মুক্তিযুদ্ধ অতুলনীয়, সেটা নিয়ে কাজ করব।”
শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে হবে বলেও জানান তিনি।