Published : 25 Jun 2026, 11:02 PM
প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রমে ‘সাংস্কৃতিক শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এর আওতায় শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, কেরাত, বক্তৃতা, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সংগীত বিভাগ আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংগীত, সাহিত্য, আবৃত্তি, নাটক, চিত্রকলা কিংবা কেরাত-সবই শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। কোনো শিক্ষার্থী কোন মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করবে, সেটি তার ও তার পরিবারের পছন্দের বিষয়। নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য এবং সংগীতচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাদের অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা ও সাম্যের দর্শন সমাজকে আলোকিত করতে পারে।
“সংগীত মানুষের আত্মিক ও মৌলিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিটি স্তরে সংগীতের প্রভাব রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু সাহিত্যিক নন, তারা আমাদের জাতীয় জীবনের চিরন্তন আইকন। তাদের সৃষ্টিকর্মের মধ্যেই বাংলা সংস্কৃতির মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে।”
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পান, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ সময়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রত রাখতে সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।
সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অনিমা রায় বলেন, শুদ্ধ সংগীতচর্চা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংস্কৃতি একটি দেশের আয়না, আর সংগীত মানুষের মনন ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ স্ট্যালিন বক্তব্য রাখেন।