Published : 12 May 2026, 02:27 PM
পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সে লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বর্জ্য পৃথকীকরণ’ (ওয়েস্ট সেগ্রিগেশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমবার বেলা ১১টায় বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন ও পলিব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, “নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আমরা এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে বর্জ্য থাকবে ডাস্টবিনে, আর সেই বর্জ্য ডাস্টবিন থেকে নিয়ে যাবে সিটি করপোরেশন।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সচেতনতার অভাবেই অনেক মানুষ এখনো রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলছেন। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেটসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে পর্যায়ক্রমে ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল বলে জানিয়েছেন তিনি।।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, কেবল মসজিদ নয়, পর্যায়ক্রমে মন্দির, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ডাস্টবিন বিতরণ করা হবে।
“পাশাপাশি বিভিন্ন 'সোসাইটিকেও' আমাদের এই সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মশা নিধনে ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে এবং আসন্ন কোরবানির ঈদ পর্যন্ত ৫৪টি ওয়ার্ডেই এই প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “ভালো কাজের জন্য আপনারা উৎসাহ দেবেন, ভুল হলে সমালোচনাও করবেন। তবে সমালোচনার পাশাপাশি পরামর্শও দেবেন, যেন ভবিষ্যতে আমরা ভুলগুলো সংশোধন করে আরও উন্নত সেবা দিতে পারি।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর হুমায়ুন কবির বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের একার উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বর্জ্য উৎপাদনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে ‘সোর্স সেগ্রিগেশন’ বা উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “যেখান থেকে বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, সেখান থেকেই আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবেই রিসাইকেল বা বর্জ্য অপসারণ সহজ হবে।”
আলোচনা সভা শেষে গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন ও ব্যাগ হস্তান্তর করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাতসহ গুলশান সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।