Published : 19 Feb 2026, 07:24 PM
নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভায় তিনি বলেন, “প্রথম ৬ মাসের মধ্যে সরকার কী কী কাজ করবে, মানুষ কিন্তু তা দেখবে। প্রথম ৬ মাস তো মানুষের একটা আগ্রহ থাকে। নতুনত্বের একটা স্পিরিট থাকে। গতি ও ক্ষিপ্রতা নিয়ে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।”
মন্ত্রী বলেন, প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কী কী কাজ করা সম্ভব হবে, তার অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করতে হবে।
“আমাদের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা, সে প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের সবাইকে টিমওয়াইজ কাজ করতে হবে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হল, আপনারা আমরা সবাই টিম ওয়াইজ কাজ করতে আসছি।”
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে চান তিনি।
প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে সিলেটের সংসদ সদস্য আরিফুল বলেন, “সেখানকার প্রায় ৬০-৭০% লোক কর্মসংস্থানের জন্য প্রবাসে কাজ করে থাকে।”
সভায় মন্ত্রণালয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি আমাদের সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আমরা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে পারব, তা সুনির্দিষ্টভাবে আপনারা প্রস্তুত করবেন।”
“সব কাজ তো আমরা একসাথে করতে পারব না। কিন্তু ইমিডিয়েট আমরা কী কী কাজ করতে পারি, সেটার প্রায়োরিটি ঠিক করতে হবে।”
প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণে এ পর্যন্ত কতজনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে ,তার বিস্তারিত তালিকা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোন দেশ থেকে কতজন এসেছেন এবং কাদের কীভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে।”
আন্তর্জাতিক অনেক শ্রমবাজার কেন বন্ধ আছে এবং তা পুনরায় চালুর জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।
“দেশের বাইরে কাজ করতে যারাই যান, তাদের সহযোগিতা করতে হবে। সাধারণত প্রবাসীরা বিদেশ যায় গয়নাঘাটি ও বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে। তাদের প্রতি আমাদের সদয় হতে হবে।”
অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যে কোনো মূল্যে অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে।
“এখন সব কিছু অনলাইনে হয়, আমাদের যারা বাইরে যায়, যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠায় সেজন্য এয়ারপোর্টে যে সাপোর্ট ডেস্ক আছে, সেখানে যাতে তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জনগণের প্রতি কমিটমেন্টের জায়গা থেকে আন্তরিকতা এবং সততার সাথে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। সেক্ষেত্রে আপনাদেরকেও আমরা সহযোগী হিসেবে চাই।”
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব নেয়ামত উল্ল্যা ভূইয়াসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।