Published : 01 Jul 2023, 09:43 PM
ঈদের তৃতীয় দিনের বর্ষাস্নাত বিকালে তিন ঘণ্টায় ঢাকায় ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারি এ বর্ষণে অলিগলিসহ অনেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে পথচারীদের যাতায়াতে গোল বাঁধিয়েছে।
শনিবার দুপুরের পর আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে। ঘণ্টা তিনেক ধরে চলা বৃষ্টির শেষ দিকে টিপটিপ করে ঝরেছে অনেকক্ষণ। তবে শুরুর দিকের মাঝারি থেকে ভারি আকারের বৃষ্টিতে অনেক সড়কে পানি জমে গেলে বেকায়দা অবস্থা তৈরি হয়।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করায় এ পরিমাণ বৃষ্টিতেই রাজধানীর সড়কগুলোতে গাড়ি চলেছে পানি ভেঙে, আশেপাশের মানুষজনকে ময়লা পানিতে ভিজিয়ে। কোনো কোনো সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানিও জমতে দেখা গেছে।
আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান,
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৭২ মিলিমিটার।
পুরানো খবর:
বৃষ্টিভেজা ঈদের তৃতীয় দিনপুরানো খবর:
এমন বৃষ্টি আরও অন্তত দুদিনএদিন দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টিপাতের শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সেই হিসাব ধরে মনোয়ার হোসেন বলেন, "এখন যে অবস্থা আছে তাতে আরও দুই তিনদিন এই অবস্থা চলবে। হয়তো এটা আরও এক সপ্তাহ অবস্থান করতে পারে। বৃষ্টিপাত চলবে। মাঝে কিছুটা রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়াও থাকতে পারে।"
শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ঢাকার বাতাসে আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বৃষ্টিপাতে দেশে কমে এসেছে তাপপ্রবাহ। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই এলাকা ও কিশোরগঞ্জের নিকলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
আগামী পাঁচ দিনের তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।