Published : 09 Aug 2025, 09:18 PM
চীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করবে।
ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে তিন দিনের সফরে থাকা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনের স্বাস্থ্যখাতের কর্মকর্তারা এ অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার সফরের শেষ দিন প্রতিনিধি দল কুনমিং টংরেন হাসপাতাল ও কুনমিং আই হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও সেবা কার্যক্রম সরাসরি দেখেন।
কুনমিং টংরেন হাসপাতাল
‘লেভেল-৩’ মানের বহুমুখী বেসরকারি হাসপাতালটি ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা, প্রতিরোধ, পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক বিনিময়সহ বিস্তৃত সেবা দিয়ে থাকে। এই হাসপাতালের সামগ্রিক সক্ষমতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়।
এক ঘণ্টার প্রেজেন্টেশনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের গুরুতর অসুস্থতা ও মানসিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত কয়েক রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
প্রতিনিধি দলকে আন্তর্জাতিক স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি সেন্টারও দেখানো হয়, যা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির উন্নত সার্জারি, নিবিড় পুনর্বাসন এবং স্নায়ু পুনর্জন্ম গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেন লিং জানান, এখানে শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ৩৭টি বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। যার মধ্যে কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, শ্বাসযন্ত্র চিকিৎসা, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, অনকোলজি, নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিকস, ইউরোলজি ও গাইনোকোলজি উল্লেখযোগ্য।
তিনি চিকিৎসা প্রযুক্তি ও মানবিক সেবাসহ এর বিশেষ দিকগুলো তুলে ধরেন।
হাসপাতালে বিদেশি রোগীদের জন্য কঠোর ও কার্যকর ডায়াগনোসিসসহ আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, যা পরিচালিত হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের (এমডিটি) মাধ্যমে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশি রোগীসহ জটিল জন্মগত হৃদরোগ, উন্নত অর্থোপেডিক সার্জারি ও রিফ্র্যাক্টরি রোগের সফল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে আন্তর্জাতিক আউটপেশেন্ট, ইনপেশেন্ট ও অনকোলজি সেন্টার স্থাপন করা হবে বলেও সংবাদকর্মীদের জানানো হয়।
প্রতিনিধি দল কুনমিং আই হাসপাতালও ঘুরে দেখে। তারা এই হাসপাতালের লেজার সার্জারি ও উন্নত ডায়াগনস্টিক ইমেজিং প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ভর্তির প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কুনমিং আই হাসপাতালের সিইও ঝাং মিন বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল হলেও তাদের চিকিৎসার মান সরকারি হাসপাতালের সমতুল্য। প্রতি বছর ভারত, রাশিয়া ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রোগী এখানে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের সাশ্রয়ী খরচে উন্নত সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ভাষাগত বাধা দূর করতে ইংরেজি-দক্ষ চিকিৎসক রাখা হয়েছে। রোগীরা ইমেইলে রোগের বিবরণ পাঠালে তারা দ্রুত সাড়া দেবেন।
বাংলাদেশি সাংবাদিকরা চীনের শীর্ষ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি কোং লিমিটেডও পরিদর্শন করেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিরাপদ, কার্যকর ও উচ্চমানের ভ্যাকসিন তৈরি করে তারা বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শেষ দিনে সাংবাদিকরা এন্টি–জাপানিজ ওয়ার মেমোরিয়াল হল এবং ইউনান এথনিক ভিলেজ পরিদর্শন করেন।
চীন–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে চীনা সরকারের আমন্ত্রণে এই সফর আয়োজন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং যৌথভাবে জানায়, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে, প্রতিনিধি দল কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল, প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কুনমিং আন্তর্জাতিক ফুল মার্কেট পরিদর্শন করেন।