Published : 22 Dec 2025, 11:18 PM
নির্বাচন ব্যাহত করতে ক্ষমতাচ্যুত শাসকের অনুসারীদের চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
পরে এ টেলিফোন আলাপের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, এসময় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “স্বৈরাচারী শাসনামলে লুণ্ঠিত ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
বিগত ‘স্বৈরাচারী শাসনের’ সমর্থকরা নির্বাচনি প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে ‘লাখ লাখ ডলার ব্যয় করছে’- এমন অভিযোগ থাকার কথা তুলে ধরে মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন বিশেষ দূতকে বলেন, “তাদের পলাতক নেতা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।“
তবে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত’ থাকার কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের হাতে প্রায় ৫০ দিন সময় আছে। আমরা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। আমরা এটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।”
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ফোনালাপের বিষয়ে বলা হয়, প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় উভয় দেশের বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ায় মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানান বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ওই শুল্ক আলোচনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ সক্ষম হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফোনালাপে মার্কিন বিশেষ দূত গত শনিবার ওসমান হাদীর জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশ নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আনেন।
এ টেলিফোন আলোচনার সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।