১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, অপেক্ষায় আরও ১৮০০ জন

এর আগে জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন দেশে ফিরে আসেন।

কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, অপেক্ষায় আরও ১৮০০ জন
কম্বোডিয়া থেকে দেশি ফিরেছেন ৩৮ বাংলাদেশি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 08:15 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

বিভিন্ন কাজের প্রতিশ্রুতিতে কম্বোডিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন বলে ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এরকম আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্র্যাক। এর আগে গত জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন দেশে ফিরে আসেন।

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

কম্বোডিয়া সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর এ ৩৮ বাংলাদেশি ফিরলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের বরাতে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা বলছেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী প্রতারণার শিকার বাংলাদেশিদের ফেরার পথে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান, চাপ প্রয়োগ করেন। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দিয়ে সেখানে নিয়ে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য কম্বোডিয়ায় গেছেন।

তবে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত জুন মাসে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল।

এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি ‘সাইবার স্ক্যাম সেন্টার’ থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে যুক্ত করা হয়।

কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব কর্মীদের ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়।