Published : 28 Jul 2025, 06:59 PM
সচিবালয়ে সহিংসতার মামলায় চিকিৎসক খোরশেদ আলমের জামিন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
সোমবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক।
এদিন খোরশেদ আলমের জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আহমেদ আলী শেখ।
শুনানিতে তিনি বলেন, “খোরশেদ আলম ঘটনার সাথে জড়িত না। হয়রানি করার জন্য তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা একটা ম্যান মেড ডেসট্রয় মামলা। তিনি একজন চিকিৎসক। আগামী ৬ অগাস্ট স্পেশাল বিসিএসে তার (মৌখিক) পরীক্ষা। তার জামিন প্রার্থনা করছি।”
রাষ্ট্রপক্ষে শামছুদ্দোহা সুমন ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করেন।
শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “মাইলস্টোনে যে ঘটনা ঘটেছে- তা ইচ্ছাকৃত না। অনেক দেশে এর চেয়ে বড় বড় ঘটনা ঘটেছে। এটা কারো কাম্য না।
“মাইলস্টোনে দুর্ঘটনা ঘটল, আর সচিবালয়ে হামলা। এতো সহজ ঘটনা না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র। হাসিনা-মোদীর ষড়যন্ত্রে এ ঘটনা ঘটেছে।”
কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, “মাইলস্টোনের ঘটনা পুঁজি করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সচিবালয়ে ভাংচুর চালায়। তারা পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যকে প্রহার করে। সেখানে স্লোগান দেয়, ‘শেখ হাসিনা সরকার, বারবার দরকার’। উনি ডাক্তার মানুষ, সচিবালয়ে যাবেন কেন?”
তখন তার আইনজীবী বলেন, “সচিবালয়ে তো যাননি।”
শুনানি শেষে আদালত আসামি খোরশেদ আলমের জামিন নাকচ করেন।
গত ২১ জুলাই ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পরদিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা হবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার গভীররাত পর্যন্ত সময় নেয়।
তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পরদিন শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ ঘটনায় ২২ জুলাই রাতে ভাংচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন এসআই গোলাম মুক্তি মাহমুদ। ওই মামলায় ২৫ জুলাই রাতে রায়েরবাজার এলাকা থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।