Published : 09 Mar 2026, 12:42 AM
ঈদে শিশুর মুখে হাসি ফোঁটাতে চেষ্টার কমতি রাখেন না বড়রা, ছোটোদের কিনে দেন উৎসবের জামা। ঢাকার বিপণিবিতান সেজেছে শিশুদের বাহারি পোশাকে।
ছেলে শিশুদের জন্য মিলছে নানা নকশার শার্ট-প্যান্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি; আর মেয়েদের জন্য মিলছে ফ্রক, গাউন, লেহেঙ্গা, সারারা, ঘারারাসহ নানা পোশাক।
এবার রোজার মাঝামাঝি এসে বিপণিবিতানে কেনাবেচা শুরু হয়েছে। কিছুটা দাম কম ফুটপাতের দোকানে।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে শিশুদের পোশাকের দোকান ‘মাইশা ওয়ার্ল্ডের’ ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন, “এবারের রোজায় কিছুটা দেরিতে বিক্রিবাট্টা শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। শুক্র ও শনিবার ভালো বিক্রি হয়েছে।”

দোকানটি ৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি মেয়েদের জন্য গাউন, পার্টি ফ্রক, সারারা, ঘারারা, লেহেঙ্গা, ফারসি, টু পিসসহ বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করছে।
মনিরুজ্জামান জানান, এবার শিশুরা ফ্রক বা সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি লেহেঙ্গা, সারারা ও টপস্-প্যান্ট সেটের মত পোশাক নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
“দেশি পোশাকের চেয়ে চীন-ভারত থেকে আমদানি করা পোশাক নিয়ে মেয়ে বাচ্চাদের আগ্রহ বেশি। গাউন, পার্টি গাউনের দিকে ঝোঁকও আছে। আমাদের এখানে গাউন, পার্টি ফ্রক, সারারা, ঘারারা, লেহেঙ্গা, ফারসি, টপস্-প্যান্ট টু পিস মিলছে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার ভেতরে।”

সেদিন ১৩ বছর বয়সি অর্ক ও ৯ বছরের মেয়ে অন্তরা কেনাকাটা করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছিলেন বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে।
তাদের বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলছিলেন, “ছেলের জন্য গেঞ্জি, প্যান্ট, জুতা কিনেছি। মেয়ের পছন্দ লেহেঙ্গা।
“সে সালোয়ার-কামিজও নিতে চাচ্ছে। সেগুলো এখন কেনার ইচ্ছা আছে। আর ছেলের জন্য পাঞ্জাবি ও জুতো কিনব কিছুদিন পর।”
অন্তরা বলে, “আমি চাইছিলাম লেহেঙ্গা নিতে, কিন্তু কামিজটাও ভালো লেগেছে। বাবা বলছে দুটোই নিতে।”

একই বিপণিবিতানের ‘বেবিল্যান্ড’ নামের দোকানে ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের পোশাক মিলছে।
ওই দোকানের ব্যবস্থাপক মো. রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছেলেদের গেঞ্জি, প্যান্ট, শার্টের সেট, পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে আমাদের এখানে। আর মেয়েদের টপস-প্যান্ট, ফ্রক, পার্টি গাউন, সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাচ্ছে। ছেলে বাচ্চাদের গেঞ্জি ও শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার ভেতর। একই দামে মিলছে জিন্স, গ্যাবার্ডিন ও প্লেইন কাপড়ের প্যান্ট।
তিনি বলতে থাকেন, “বাচ্চাদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ২ থেকে ১০ হাজার টাকার ভেতর। আর মেয়ে বাবুদের টপস-প্যান্ট, ফ্রক, পার্টি গাউন, সালোয়ার কামিজের দাম রকমভেদে পড়বে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার ভেতর।”

‘রাইসা ফ্যাশন’ নামের আরেকটি দোকানও দেখা গেল শিশুদের পোশাকের পসরা।
দোকানি মনির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার ছেলে বাচ্চাদের ‘বাবুসেট’ বা শার্ট-গেঞ্জির সঙ্গে প্যান্টের সেটের আগ্রহ বেশি।
“আলহামদুলিল্লাহ কেনা-বেচা ভালো হচ্ছে। প্রকারভেদের বাবুসেটের দাম পড়ছে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।”
ঈদকে কেন্দ্র করে বিপণিবিতানের পাশাপাশি সড়কে ধারে ও ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে বসানো দোকানগুলোও শিশুদের জন্য রঙ-বেরঙের পোশাক নিয়ে এসেছে।
বিপণিবিতানে ‘ঈদের বিক্রি’ শুরু হলেও অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ীমূল্যের পোশাকের এ দোকানগুলোতে তেমনভাবে বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকানে ৬ মাস থেকে দশ বছর বয়সি শিশুদের জন্য নানা পোশাক নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোজার ১৭টা গেল। এখনও তেমন বিক্রি শুরু হয় নাই। এর কারণ কী, সঠিক বলতে পারি না।”
রোজার শেষ দিকে কেনাবেচা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

সালাউদ্দিনের দোকানে গেঞ্জি, শার্ট, জিন্স, টপস্, ফ্রকসহ বাহারি পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে বলেন, “ছেলে বাচ্চাদের গোলগলা গেঞ্জি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দাম পড়বে। আর কলারসহ গেঞ্জির দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।
“মেয়েদের টপস সিঙ্গেল বিক্রি করছি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর প্যান্ট বা পায়জামাসহ টপসের সেট পড়বে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার ভেতরে।”
কারওয়ান বাজারে সড়কে অস্থায়ী দোকানগুলোতে ১০ বছর বয়সি ছেলেদের জন্য জিন্স পছন্দ করছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব রওশন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্যান্ট দেখছি ছেলের জন্য, নেওয়ার ইচ্ছা আছে। আমরা গরিব মানুষ, এখানে একটু কম দামে পাওয়া যায় বলেই এখানে আসা।
“এখনো দাম জিজ্ঞাস করিনি। আশা করি নাগালের মধ্যেই থাকবে।”

পাশের দোকানে শিশুদের পাঞ্জাবি-পায়জামার পসরা নিয়ে বসেছেন সিয়াম হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাচ্চাদের পাঞ্জাবি নিতে পারবেন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার ভেতরে।
“আর পায়জামার দাম পড়বে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বড়দের পাঞ্জাবি পাবেন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।”
রোজার অর্ধেকের বেশি শেষ হলেও এখনও বিক্রি তেমন বাড়েনি বলে আক্ষেপ করলেন সিয়াম।
আরেক দোকানি অলি আহমেদ মেয়ে শিশুদের ফ্রক, টপস্ ও ছেলেদের গেঞ্জি নিয়ে বসেছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মেয়েদের ফ্রক পাবেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকার ভেতর। পায়জামা বা প্যান্টসহ নিলে পড়বে ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা।
“আর ছেলে বাচ্চাদের জিন্স নিতে পারবেন ১৫০ থেকে ৬০০ টাকার ভেতর। কিন্তু বেচাবিক্রি ভালো না।”
এখনো বেসরকারিখাতের কর্মী এবং পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ছাড় না হওয়ায় চাহিদা বাড়েনি বলে ধারণা এ ব্যবসায়ীর। রোজার শেষ দিকে কেনাবেচা বাড়বে বলে তার প্রত্যাশা।