Published : 29 May 2026, 12:31 AM
কোরবানি ঈদের দিন প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজ করে চলেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৭৩০টি ট্রিপে ৭ হাজার ৩৪১.৭৫ টন বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছে তারা। প্রতিশ্রুত সময় রাত ২টার মধ্যেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম ‘সফলভাবে’ পরিচালিত হচ্ছে।
রাত ৯টায় নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, “ডিএসসিসি এলাকায় প্রথম দিনে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৯টি কোরবানির পশু জবাই করা হয়েছে। এর মধ্যে দুপুর থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৬৮৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

“চলমান কার্যক্রমের ধারা অনুযায়ী রাত ১২টার মধ্যেই অপসারণকৃত বর্জ্যের পরিমাণ ১৮ হাজার টন অতিক্রম করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
এছাড়া ডিএসসিসি এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোরও প্রায় ৬৫ শতাংশ বর্জ্য ইতিমধ্যে অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে তথ্য দেন প্রশাসক।
আবদুস সালাম দাবি করেন, করপোরেশনের মোট ৭৫টির মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ডকে এরইমধ্যে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি বর্জ্য সরিয়ে নিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সফলভাবে বর্জ্য অপসারণে সার্বিক সহযোগিতার জন্য নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রশাসক আবদুস সালাম রাত ৯টার মধ্যে ডিএসসিসি এলাকাকে বর্জ্যমুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছিলেন।
অন্যদিকে মিরপুরে ডিএনসিসি কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সংশ্লিষ্ট এলাকার বর্জ্য রাত ২টার মধ্যে অপসারণ শেষ করার আশা প্রকাশ করেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, বাংলা মোটর, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ঘুরেও পুরোদমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে দেখা যায়।
মালিবাগ সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে জমেছে কোরবানি বর্জ্যের বিশাল স্তূপ। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ব্যস্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেখান থেকে ট্রাকে করে বর্জ্য পাঠানো হচ্ছে ডিএসসিসির নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থান মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে নির্ধারিত সময়ে ঢাকাকে বর্জ্যমুক্ত করা যায়।
এদিকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
রুবেল হোসেন নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বলেন, “কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। কাল রাস্তায় বের হয়ে যদি দেখি রক্ত-কাদা, কিংবা বৃষ্টির কারণে রক্তবন্যা, তাহলে সন্তুষ্ট হই কীভাবে? শুধু রাস্তার ময়লা তুলে নেওয়াই তো সব না।”
মালিবাগ মোড়ের চায়ের দোকানে আবুল হোসেন নামের এক বৃদ্ধ বলেন, “কাজেকর্মে (পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা) তো ভালোই মনে হয়। গন্ধের কথা বলে খুব বেশি লাভ নাই। লাখে লাখে পশু কোরবানি হইছে। এত রক্ত, এত ময়লা- সেগুলো পচে শেষে গন্ধ হবেই।”
বেসরকারি চাকরিজীবী ফাইয়াজ রাফি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ভোগান্তি কম হোক। দেশের মানুষ তো বুঝতে চায় না, সবাই আরাম খোঁজে। নির্ধারিত জায়গায় যদি পশু কোরবানি দেওয়া হত, তাহলে শহরে গন্ধের বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রশ্নই আসত না। এসব বলে আর কী লাভ? আমার নিজের কোরবানিও হয়েছে গলির ভেতরে।”
ফাইয়াজ রাফির সাথে থাকা জায়েদ আহমেদ বলেন, “আসলে সদিচ্ছা থাকলেও অনেকসময় অনেককিছু করা যায় না। সরকার আইন করে দিলে সবাই যখন বাধ্য হবে, তখন হয়তো পরিবর্তন হবে।”