সম্প্রীতিতে যারা বিভাজন ঘটাতে চায়, তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকুন: রাষ্ট্রপতি
“একটা স্লোগান আছে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার,” বলেন মির্জা ফখরুল।
দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধনে বিভাজন সৃষ্টি করে যারা ‘সুবিধা নিতে চায়’, তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকার কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অভূতপূর্ব নির্দশনের দেশ। শুধু আজ নয়, যুগান্তর ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছে। আমাদের সাহিত্য, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিল্প— সব কিছুর মধ্যে এই অভূতপূর্ব সম্প্রীতির নির্দশন আপনারা সব সময় পাবেন।
“এই সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে যারা বিভিন্নভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে সুবিধা নিতে চায়, তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকুন।”
তিনি বলেন, “আমাদের এখানে একটা স্লোগান আছে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা সেই সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে সেটা রক্ষা করতে হবে।”
রাষ্ট্রপতি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ।
পরে রাষ্ট্রপতি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও ছিলেন।
মণ্ডপ পরিদর্শনের পরে রাষ্ট্রপতি মন্দির প্রাঙ্গণে মতবিনিমিয় সভায় যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যের শুরুতে হিন্দু সম্প্রদায়কে পূজার শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “স্বাধীনতার আগে থেকেই এই দেশে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। ১৯৭১ সারে একসঙ্গে যেমন আমরা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম এবং একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলেছিলাম, আমরা সেখানেই স্থির আছি এবং সেটাকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত রয়েছি।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমাদের বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয়। আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম জায়গায় যেতে চাইনি, চাইও না। সেই ধারাকে আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
তবে ‘দুর্ভাগ্যক্রমে’ দেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ‘অনেক চেষ্টা চলছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে, এ কথা দেশ-বিদেশে বিভিন্নভাবে বড় করে প্রচার করা হয়।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকারও উপস্থিত ছিলেন।
