Published : 16 Apr 2026, 04:17 PM
ঢাকার মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে ‘এলেক্স’ ইমনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে দেখিয়ে নিহতের মা বলেছেন, “এই সাদা গেঞ্জি পরেই ও আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে।”
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মনিরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে তিনি এ তিনি এ কথা বলেন।
গত রোববার বিকালে বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মিলে ‘এলোক্স’ ইমনকে কুপিয়ে আহত করে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন তার মা ফেরদৌসী মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর সাঈদ হোসেন শিমুল ওরফে আইয়ুশ, তুহিন বিশ্বাস, রাব্বি কাজী, সুমন ওরফে পাখির পোলা সুমন, রানা ও রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই সাধন কুমার মন্ডল। ওইদিন আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন।
এদিন শুনানিকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাধন।

তিনি বলেন, “এটা সারা বাংলাদেশের আলোচিত ঘটনা। আসামিরা এলেক্স গ্রুপের প্রধান এলেক্স ইমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামিরা সবাই এজাহারনামীয় আসামি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।”
আসামিদের মধ্যে তুহিন, সাঈদ ও রাব্বির পক্ষে আইনজীবী শফিকুল ইসলাম শফিক রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, “আসামিদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়নি। তারা ঘটনাস্থলে ছিল না। মামলার বাদী বলেছেন, তারা ঘটনাস্থলে ছিল না। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন। প্রয়োজনে তার কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”
এসময় বাদী ফেরদৌসীকে ডাকেন বিচারক।
বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওই তিন জন (তুহিন, সাঈদ ও রাব্বি) ঘটনার সাথে জড়িত না। তারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কিন্তু ওরা (বাকিরা)- ওদের আমার ছেলের কাছে যেতে দেয়নি।”
এসময় কাঠগড়ায় থাকা রানাকে দেখিয়ে ফেরদৌসী বলেন, “ওই সাদা গেঞ্জি পরা লোকটা; এই সাদা গেঞ্জি পরেই আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে।”

এসময় বিচারক আইনজীবীকে বলেন, ভিডিওটা দেখছেন? আইনজীবী বলেন, “হ্যা।”
ভিডিওটিকে ‘ভয়ংকর’ বর্ণনা করে বিচারক বলেন, সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে।
পরে আদালত আসামিদের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
এদিন বাদীর সঙ্গে ‘এলেক্স’ ইমনের স্ত্রী, ভাই, মামাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। এজলাসে নেওয়ার সময় ইমনের মা ও স্ত্রী ঝুমা আসামিদের ওপর হামলা করে। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে এলেক্স ইমনকে বাসায় রাখা মাছ নিয়ে আসতে খবর পাঠান তার শ্বশুর। মাছ আনতে বাসা থেকে বের হন তিনি। আড্ডা দিয়ে বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে মোহাম্মদপুরের বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে পৌঁছাতেই পূর্ব শত্রুতার জেরে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারায় এলেক্স ইমন। আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।