Published : 27 Apr 2026, 07:12 PM
হাওর এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণহানি ঠেকাতে আশ্রয়কেন্দ্র ও বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।
এ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বিয়ে করা নিয়ে রসিকতা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসের ওপর আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বজ্রপাতজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় ‘সঠিক গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি করেন কামরুজ্জামান। তার নোটিসের জবাব দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মন্ত্রী বক্তব্য শেষ করার পর স্পিকার বলেন, “এত বজ্র সুনামগঞ্জে, এত বজ্রপাত হয় জানলেতো বিয়েই করতাম না ওখানে।”
এর আগে কামরুল তার নোটিসে বলেন, তার নির্বাচনি আসনের চারটি উপজেলাই হাওরবেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের জন্য সারাবছর কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওরে কাজ করতে হয়। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে হাওরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে অনেকের প্রাণহানি ঘটে।
সম্প্রতি আকস্মিক বজ্রপাতে দেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তার আসনেই ৪ জনের প্রাণ গেছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই। হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান নেই, তালগাছ রোপণ কর্মসূচিও দৃশ্যমান নয়। পর্যাপ্ত বজ্রনিরোধক যন্ত্র ও আশ্রয় কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়নি।”
হাওরের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ‘সঠিক গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।
জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী দুলু বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি। এখানে প্রাকৃতিক, আবহাওয়াজনিত ও মানবসৃষ্ট নানা দুর্যোগ ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বজ্রপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে প্রায়ই বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটছে।”
বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত সচেতনতা বাড়াতে হবে।
“বজ্রপাত ভূমিকম্পের মতো একেবারে আগাম বার্তা ছাড়া ঘটে না। আকাশে ঘন মেঘ জমলে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গেলে প্রাণহানি কমবে। এজন্য হাওরাঞ্চলে সাইরেনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠে কাজ করা কৃষকরা যাতে সময়মত নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে চায় সরকার।”
প্রাকৃতিকভাবে ঝুঁকি কমাতে তালগাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেটি খুব বেশি এগোয়নি। তবে তালগাছ রোপণ কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে বলে সরকার মনে করে।
তার ভাষ্য, বজ্রপাত হলে টাওয়ার বসিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে টিআর প্রকল্প থেকে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তবে তা খুব বেশি কার্যকর হয়নি।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু মারা গেলে অতীতে এ ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা ছিল না। কৃষক যখন গবাদি পশু হারিয়ে ‘সর্বস্বান্ত’ হয়ে যান, তখন তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে।
এসময় বজ্রপাতে প্রাণহানি প্রতিরোধে সাইরেনের ব্যবস্থা ‘যথেষ্ট’ হবে না মন্তব্য করে কামরুল বলেন, “একেকটি হাওরের দূরত্ব ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। তাই সাইরেন দিয়ে সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।”
তার দাবি, হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র ও বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো যেতে পারে। মানুষ হাওরে গেলে যাতে ‘সহজলভ্য’ কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা পায়, সে ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে।
জবাবে ত্রাণমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি ও বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানোর প্রস্তাবটি ভালো বলে মন্তব্য করেন।