Published : 25 Jun 2025, 08:18 PM
এ বছর নানা কারণে সম্ভব না হলেও আগামী বছরের প্রথম দিন ছাত্রছাত্রীদের হাতে নির্ভুল পাঠ্যবই তুলে দিতে সরকার ‘বদ্ধপরিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার।
তিনি বলেছেন, “পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে; যাতে অতীতের ভুলভ্রান্তিগুলো সংশোধন করে ছাত্রছাত্রীদের হাতে যথাসম্ভব নির্ভুল পাঠ্যবই তুলে দেওয়া যায়।”
বুধবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবির সভাকক্ষে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর পাঠ্যক্রম বদলে বই পরিমার্জন করে ছাপার কাজ শুরু করতে সময় লাগায় বছরের শুরুতে এবার সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়নি। সবার হাতে সব বই পৌঁছাতে এ বছর ফেব্রুয়ারি গড়িয়ে যায়।
বইগুলোতে বানান ও ব্যকরণগত ভুল, ছাপার অসংগতি, তথ্যের বিভ্রাট রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সেই প্রেক্ষিতে শিক্ষাক্রমে বিদ্যমান ১২৩টি পাঠ্যপুস্তক ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞদের প্যানেল দ্বারা সংশোধন ও পরিমার্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তিতে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামত এনসিটিবি কর্তৃক যাচাই-বাছাই ও সংশোধন করে ছাপানোর কাজ করতে হবে।”
শিক্ষাকে ‘বৈষম্য দূর করার হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করে উপদেষ্টা বলেন, “এই কাজে জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সবার সুচিন্তিত মতামত ও বুদ্ধিবৃত্তিক অংশগ্রহণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারে।”
এজন্য সারা দেশের সব শিক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশের সব শিক্ষক বিদ্যমান ২০২৫ সালের পাঠ্যপুস্তকের বানান ও ব্যকরণগত ভুল, ছাপার অসংগতি, তথ্যের বিভ্রাট সম্পর্কে নির্ধারিত ফরমে, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে তাদের মতামত দিতে পারবেন। শিগগিরই এনসিটিবি শিক্ষকদের মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়ে উদ্যোগ নেবে।
সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, “বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন এমন শিক্ষকদের মতামত নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। সময় নিয়ে, লাইন বাই লাইন দেখে, আলোচনা করে এটি করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি গণিত ও রসায়নের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক ভার্সনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
এনসিটিবির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা সদস্য অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী সভায় বলেন, “ইতোমধ্যে কিছু বই পরিবর্তন করা হয়েছে।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া বলেন, “প্রতিটি বই রিভিউ করতে হবে, এর জন্য সময় নির্ধারণ করতে হবে এবং পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোলাম দস্তগীর কাজী ‘ইংরেজি টার্মগুলোর’ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।