Published : 12 Apr 2026, 04:04 PM
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর যে ‘সিন্ডিকেট’ রয়েছে তা ভেঙে ‘স্বল্প খরচে’ জনশক্তি রপ্তানিতে বিএনপি সরকার ‘আন্তরিক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর নিয়ে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙার জন্য মালয়েশিয়ার সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে কি না?
জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, “সিন্ডিকেটের বিষয়ে আমরাই প্রথম…গত বেশ কয়েক দশকে যারা সরাসরি বলেছে যে, আমরা সিন্ডিকেট ভাঙতে চাই।
“আমরা চাই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেন আমাদের মানুষ যেতে পারেন এবং মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি এই প্রক্রিয়াটাকে সিন্ডিকেট মুক্ত করবার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, সেটি যেন করেন।”
তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক এবং মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সে বিষয়ে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।”
২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার জনশক্তির বাজার বন্ধ বাংলাদেশের। ওই বছর মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১ মে এর মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না।
ওই তারিখের পর থেকে আর কোনো জনশক্তি যেতে পারেনি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায়-দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি বাজার আবার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়া যান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার আবারও খুলতে মালয়েশিয়ায় সম্মতি মিলেছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে ‘ক্রেডিবল রিপ্রেজেনটেটিভ’র মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
এ দিয়ে আসলে কী বোঝানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, “এটাতো শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। মালয়েশিয়া এখানে দেখবেন- লিখেছেন, উনারা যে উনাদের যারা সেন্ডিং কান্ট্রি রয়েছে, অর্থাৎ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উনারা যেভাবে শ্রমিক নেন, সেখানে উনাদের সার্টেন কিছু ক্রাইটেরিয়া রয়েছে।
“ওই ক্রাইটেরিয়াটা বাংলাদেশ না পৃথিবীর সব জায়গাতেই প্রযোজ্য এবং সেভাবে উনারা হয়তো দেবেন। সেটা ওনাদের সাইড থেকে উনাদের অবস্থান।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আমাদের দিক থেকে বলেছি, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরকেই বুঝব—যারা সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট করবেন এবং যাদের মাধ্যমে আমরা অভিবাসন ব্যয় আস্তে আস্তে কমিয়ে এনে জনমানুষের রাজনৈতিক দল- যেটি এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আছে, আমাদের মূল উদ্দেশ্য জনগণের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।
“জনগণের আকাঙ্ক্ষা—খুব দ্রুত যেন আমাদের অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে যান। জনগণের আকাঙ্ক্ষা—আমরা যেন অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা—আমরা যেন সিন্ডিকেটকে ভেঙে ফেলতে পারি।”
কবে নাগাদ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে পারে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি।